এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রবাহমান একটি খালকে রাস্তা দেখিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির (কাবিখা) অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের একটি প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যোগসাজশে বরাদ্দের সমুদয় অর্থ পকেটেস্থ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অস্তিত্বহীন এই প্রকল্পের বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চর আমখাওয়া ইউনিয়নের পাটাধোয়া পাড়া ছাত্তার মন্ডলের বাড়ি থেকে নওয়ালীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণের জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৭.৪ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয় উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, যে স্থানটিকে রাস্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত একটি জলমগ্ন খাল যা দিয়ে বৃষ্টির পানি নদীতে প্রবাহিত হয়। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো ধরনের জনমত যাচাই না করে এবং স্থানীয়দের না জানিয়েই মনগড়াভাবে এই খালকে রাস্তা দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। মূলত প্রকল্পের সভাপতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এই লুণ্ঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এই বিষয়ে পাটাধোয়া পাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক আতিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তালিকার রাস্তাটি বাস্তবে একটি খালের অংশ। সেখানে কোনোদিন কোনো মাটির কাজ হয়নি। ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এদিকে পিআইও অফিসের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের ভিন্ন একটি অভিযোগও সামনে এসেছে। কাজ শেষ করেও ঘুষ না দেওয়ায় বিল আটকে হয়রানি করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মানিকজান বেগম। তার দাবি, কার্য সহকারী সোহেল রানা প্রকল্পের বিল ছাড়ের বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। অভিযোগ দেওয়ার ১৯ দিন পর শেষ পর্যন্ত তার বিল ছাড় করা হয়।
অভিযুক্ত কার্য সহকারী সোহেল রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ভুয়া প্রকল্পের অভিযোগ অস্বীকার করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান জানান, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের কাজগুলো তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন এবং কাজ দেখেই বিল ছাড় করা হয়েছে। অন্যদিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, তিনি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছেন। যদি কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টিএইচএ/
