এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে জামালপুরেও তেলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, তেলের পাম্প ও দোকানের সামনে দিনরাত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
বিশেষ করে ‘রোববার সকাল থেকে তেল দেওয়া হবে’এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আগের রাতেই সিরিয়াল ধরে মোটরসাইকেল লাইনে রেখে পাশের গেস্ট হাউজ বা হোটেলে রাত্রিযাপন করতে দেখা গেছে অনেক চালককে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) মধ্যরাতে জামালপুর পৌর শহরের পিটিআই মোড় এলাকায় ‘জুঁই এন্টারপ্রাইজ’ এর সামনে এমন নজিরবিহীন দৃশ্য চোখে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত মোটরসাইকেল চালক মধ্যরাত থেকেই দোকানের সামনে দীর্ঘ সারি তৈরি করেছেন। ‘পরদিন রোববার সকাল ১০টায় পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করা হবে’ কর্তৃপক্ষের এমন ঘোষণার পর থেকেই তেলের নিশ্চয়তা পেতে চালকরা এই চরম ভোগান্তি মেনে নিয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী তাদের কর্মঘণ্টা বাঁচাতে রাতেই বাইক রেখে কাছাকাছি সস্তা গেস্ট হাউজে রুম ভাড়া নিয়েছেন।
তেলের জন্য লাইনে থাকা ব্যবসায়ী সুজন মিয়া জানান, দিনের বেলা দোকানের কাজ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ঝামেলা এড়াতে রাতেই মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড় করিয়ে ৩০০ টাকায় একটি গেস্ট হাউজে রুম নিয়েছেন, যাতে সকালে তেল দেওয়া শুরু হলেই তিনি দ্রুত সংগ্রহ করতে পারেন।
একইভাবে মার্কেটিং পেশায় নিয়োজিত মো. মাসুদ ও সোলাইমান জানান, সারাদিন বাইক নিয়ে তাদের বিভিন্ন এলাকায় দৌড়াতে হয়। সকালে এসে লাইনে দাঁড়ালে তেল পেতে দুপুর হয়ে যাবে, এমনকি তেল শেষ হয়ে যাওয়ারও ভয় থাকে। তাই নিশ্চিত হতে রাতেই গাড়ি লাইনে রেখে গেস্ট হাউজে উঠেছেন তারা।
এ বিষয়ে জুঁই এন্টারপ্রাইজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সকাল ১০টা থেকে নিয়ম মেনে তেল সরবরাহ শুরু হবে। সরবরাহ শুরুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বাইক চালকরা দোকানের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চালকদের এই কষ্ট দেখে খারাপ লাগলেও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সময়ের আগে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ সামান্য তেল দেওয়ার খবর জানাজানি হলেই মুহূর্তের মধ্যে শত শত বাইকার ভিড় জমাবে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জামালপুরের প্রায় প্রতিটি পাম্প ও তেলের দোকানেই এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
টিএইচএ/
