আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অনুষ্ঠিত ‘আফগানিস্তান-মধ্য এশিয়া পরামর্শমূলক সংলাপ’-এ আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক ও ট্রানজিট সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলভী আমির খান মুত্তাকি। বাখতার নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান এবং কাজাখস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করা।
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের কিছু রাষ্ট্রের অতিমাত্রায় নিরাপত্তা কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ট্রানজিট সহযোগিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থকে বিঘ্নিত করতে পারে। এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে তিনি জানান, চীনের মধ্যস্থতায় বর্তমানে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আফগান সরকার পূর্ণ আন্তরিকতা এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এই সংলাপে যুক্ত হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
মৌলভী মুত্তাকি আরও জানান, ইসলামিক আমিরাত সবসময়ই সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সব মতপার্থক্য নিরসনে বিশ্বাসী। তবে আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং দেশের জনগণের সুরক্ষায় সরকার আপসহীন থাকবে। তিনি অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে বলেন, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আফগানিস্তানের বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। এই বিশাল বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারলে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাবুলে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজন এবং আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ আফগানিস্তানকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগকারী ‘সেতু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পুরো অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও ট্রানজিট সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। আফগানিস্তান এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, যা এই পরামর্শমূলক সংলাপের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাখতার নিউজ এজেন্সি
টিএইচএ/
