আসন্ন দাখিল পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। একইসঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বোর্ডের পক্ষ থেকে দাখিল পরীক্ষা আয়োজন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ‘মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড আইন-২০২০’-এর আলোকে এই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষা পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে, পূর্ণ সময়ে এবং পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত মাদরাসা থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করা এবং নিয়মিত রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে রেজিস্ট্রেশনের তথ্যের সঙ্গে ফরম পূরণের তথ্যে কোনো গরমিল থাকলে পরীক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবেন।
বয়সের ক্ষেত্রে নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার বছরের ১ জানুয়ারি ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর হতে হবে। তবে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে বয়স শিথিলযোগ্য থাকবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন্দ্রের চারপাশের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারলেও প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবে না। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত একজন নারী ইনভিজিলেটর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নীতিমালায় বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই, এমন পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখকের সহায়তা নিতে পারবে এবং বোর্ড থেকে পূর্বানুমতি সাপেক্ষে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। অন্যদিকে অটিস্টিক বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ (৩ ঘণ্টার পরীক্ষায় ৩০ মিনিট) সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট প্রেরণে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, ওএমআর শিটগুলো হলুদ রঙের কাপড়ে মুড়িয়ে সিলগালা করে বোর্ডে পাঠাতে হবে। ঢাকা মহানগরীর কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পরীক্ষার দিনই সরাসরি বোর্ডে জমা দিতে হবে।
বোর্ড জানিয়েছে, সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
টিএইচএ/
