তানবিরুল হক আবিদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শরিয়াহ বোর্ডের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা থাকা উচিত নয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক-এর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (আইবিআরপিডি)। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নবগঠিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য, বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান-সদস্য এবং খ্যাতিমান আলেম-উলামা, দাঈ ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
গভর্নর বলেন, অতীতে কিছু ইসলামী ব্যাংকে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার পেছনে পর্যাপ্ত তদারকির অভাব ছিল। ইসলামী ব্যাংকিং পণ্যভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যত্যয় ঘটেছে, যা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, শরিয়াহ বোর্ডকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাদের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর মাধ্যমে কার্যকর তদারকি পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ও আস্থাশীল করতে সুদমুক্ত, ধোঁকামুক্ত লেনদেন এবং লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি ভাগাভাগির নীতির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। তারা শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, সেক্রেটারিয়েট ও অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং এসব কমিটিকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
এছাড়া বড় বিনিয়োগ অনুমোদনে শরিয়াহ বোর্ডের মতামত বাধ্যতামূলক করা, মুরাকিবদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্বতন্ত্র ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এ খাত তদারকির জন্য পৃথক উচ্চপর্যায়ের পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ন্যূনতম শরিয়াহ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করা উচিত। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাংকে কার্যকর শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স, গবেষণা ও অডিট বিভাগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
স্বচ্ছতা বাড়াতে বছরে অন্তত একবার বহিঃস্থ শরিয়াহ নিরীক্ষা চালু, শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং প্রবর্তন এবং পৃথক কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আলেমদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গবেষণা ও কমপ্লায়েন্স কার্যক্রমে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতী শাহেদ রহমানী, ড. মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ড. মুফতী ইউসুফ সুলতান এবং মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ্।
সবশেষে বক্তারা বলেন, তাত্ত্বিক নীতিমালা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে পারলেই ইসলামী ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
জেআর/
