আলীকদমে হামের উপসর্গ, অনাথ আশ্রমে শিশুর মৃত্যু

by naymurbd1999@gmail.com

বান্দরবান প্রতিনিধি :: বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্টসহ হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ও বুধবার আলীকদম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৫ টি শিশু ভর্তি হয়। ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পাড়ায় শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ইউনিয়নের বেসরকারি একটি অনাথ আশ্রমের এক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে।

মঙ্গলবার রাতে মারা যাওয়া শিশুর নাম চাংমুম ম্রো (৮)। দুর্গম এলাকা হওয়ায় বুধবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। চাংমুম ম্রোর বাড়ি উপজেলার কুরকপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

বিজ্ঞাপন
banner

হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর শয্যার পাশে পাখা করছেন তার বাবা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর শয্যার পাশে পাখা করছেন তার বাবা।

কুরুকপাতা ইউনিয়নের প্রেন্নয় নামের একটি অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত চাংমুম ম্রো। প্রেন্নয় অনাথ আশ্রমের পরিচালক উথোয়াইংগ্যো মারমা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে জ্বর, সর্দি থেকে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হামের লক্ষণ থাকায় গত এক সপ্তাহে অনাথ আশ্রমটির ৪০টি শিশুকে আলীকদম হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বুধবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, এখনো ইউনিয়নের উজিপাড়া, ছোট ব্যাটি, বড় ব্যাটি পাড়াসহ বিভিন্ন পাড়ায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত বহু শিশু রয়েছে। এরমধ্যে ১১ এপ্রিল দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো রিংলতপাড়ার লুকুন ম্রোর সাত মাসের ছেলে খতং ম্রো ও লেংক্লাং ম্রোর তিন মাসের মেয়ে জংরুং ম্রো। তবে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হামে নয় বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

উপজেলা স্বাথ্যকেন্দ্রে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা( আরএমও) মো. হাসান বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ১৬ জন এসেছিল। এদের মধ্যে ৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার থেকে ভর্তি আছে ৯ জন। এখন মোট ১৫ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

আরএমও হাসান আরও বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১ জন রোগী এসেছে। এদের মধ্যে ২৮ জনকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির রোগীর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫ জন। ১৩ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছে।

আলীকদমের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. হানিফ চাংমুম ম্রোর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়নি।

আলীকদমের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হানিফ আরও বলেন, আগামী শনিবার থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হবে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে দুজন করে স্বাস্থ্যকর্মী যাবেন। তারা প্রত্যেক ঘরে গিয়ে খোঁজ নেবেন। হামের উপসর্গে অসুস্থ দশ বছরের নিচে কাউকে পাওয়া গেলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হবে।

আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে ওই ইউনিয়নে ১৩৫টি পাড়ায় প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। সীমান্ত সড়কের সঙ্গে আলীকদম-জানালিপাড়া-পোয়ামুহুরী হয়ে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকলেও অধিকাংশ পাড়া সড়ক থেকে অনেক দূরে। বিশেষ করে বিশেষ করে ম্রো পাড়াগুলোতে কোনো সড়ক নেই। ওই সব এলাকার ৯৫ শতাংশ পাড়ায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় না। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে খবর দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, দুর্গম ও স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাবে ম্রো সম্প্রদায়ের মধ্যে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও হামের মতো রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222