দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনে থাকা সবশেষ ইউনিটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার সঙ্গে থাকা পাথরের ঘর্ষণে বয়লারের পাইপ ফেটে যাওয়ায় বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (জনসংযোগ) মোঃ শামীম হাসান আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের সবগুলোই এখন অচল হয়ে পড়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াটের ২ নম্বর ইউনিটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিবাদের জেরে ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন (২৭৫ মেগাওয়াট) ৩ নম্বর ইউনিটটি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল। বর্তমানে এই ৩ নম্বর ইউনিটের ওভারহলিং বা বড় ধরনের সংস্কার কাজ চলছে, যা আগামী মাসের মাঝামাঝি নাগাদ উৎপাদনে আসতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। বিপিডিবি জানিয়েছে, বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১ নম্বর ইউনিটটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে, তবে মেরামত শেষ করে এটি কবে নাগাদ চালু হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল দেশে ৩৭ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ৩২ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট। তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়লেও বড়পুকুরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় সরবরাহে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলাসহ সারা দেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই নাজুক পরিস্থিতিতে সেচ কাজ এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।
টিএইচএ/
