ক্যাশলেস ক্যাম্পাস দাবির দেড় বছর: রুয়েটে পেমেন্ট অটোমেশনে ধীরগতিতে বাড়ছে ভোগান্তি

by Fatih Work

রুয়েট প্রতিনিধি, রাজশাহী: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ক্যাশলেস পেমেন্ট বা অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। তীব্র দাবদাহের মধ্যে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষার ফি ও হল সংশ্লিষ্ট ফি জমা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত শারীরিক, মানসিক ও একাডেমিক ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে রাজশাহীর বর্তমান আবহাওয়ায় প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফি পরিশোধের এই সনাতন প্রক্রিয়াটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্যাশলেস ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের অধীনে থাকলেও জনবল সংকটসহ কারিগরি নানা সীমাবদ্ধতায় এর গতি থমকে আছে। এ বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হাবিব জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সফটওয়্যারগুলো বেশ পুরনো হওয়ায় সেগুলো আগে সংস্কার করতে হচ্ছে। পাশাপাশি থার্ড পার্টি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াও কাজের গতি কমার অন্যতম কারণ। বর্তমানে ‘হল অটোমেশন’ সফটওয়্যার নিয়ে কাজ চলছে এবং এটির পরীক্ষামূলক ধাপ সফল হলে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন
banner

এদিকে ছাত্রকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের তত্ত্বাবধানে একটি পাইলট প্রজেক্ট চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় স্থাপত্য বিভাগের পাঁচটি বর্ষের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর তথ্য রুপালী ব্যাংকের ‘রুপালী ক্যাশ’ অ্যাপে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ধাপটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীকে এই সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। তবে শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক মনে করলেও এর ধীরগতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৩০০ শিক্ষার্থীর ওপর পাইলট প্রজেক্ট সীমাবদ্ধ থাকাকে তারা অপর্যাপ্ত বলে দাবি করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, প্রতি সেমিস্টারে কোর্স রেজিস্ট্রেশন ও ফি প্রদানের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মূল্যবান একাডেমিক সময় নষ্ট হচ্ছে। এমনকি লাইব্রেরির সামান্য জরিমানা পরিশোধের জন্যও শিক্ষার্থীদের একই ভোগান্তি পোহাতে হয়। শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন। তবে ক্যাশলেস পেমেন্ট চালু হলেও বর্তমানে অ্যাপে পরিশোধিত টাকার প্রিন্টেড কপি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে, যা ডিজিটাল ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রুয়েটের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম দ্রুত কার্যকর করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222