মাসউদুল কাদির :: নেপালে নতুন তুর্কিরা কী করছে? ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের বিচারে আইন পাস করেছে। আপনার কাছে অদ্ভূত লাগছে? কেন? যদি বিচার বিভাগী তদন্ত শেষ হয়ে যায়, তবে বিলম্ব হবে কেন? নেপালের নতুন সরকারের নতুন আইন। এক কথায় অসাধারণ। আজকাল খুন-ধর্ষণ-চুরি-ডাকাতির বিচার নিয়ে নানা গল্প আমরা পড়ি। অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই। সে যে ধর্মের হোক, যে গোষ্ঠীর হোক, যে মতাদর্শের হোক-তার বিচার হতে হবে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে প্রকৃত অপরাধী পার পাবে না। অনেক সময় দেখা যায়, মিথ্যা প্রচার বেশী হওয়ায় প্রকৃত অপরাধী গা ঢাকা দেয়। সাংবাদিকদের উচিত, অনসন্ধানী চোখে প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণকেন্দ্রীক সত্য- মিথ্যা তথ্য নিয়ে সবসময় বিভ্রান্ত হই। যা আদালতের কাজ তা আমরা সহজে ফেসবুকে উগরে দিই। সাংবাদিকতার ইথিক্যাল বিষয় তো বহুত দূর কি বাত। লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেন যাবে? সংবাদপত্রে ছাপা যায় না, নষ্ট কিংবা ভয়ংকর কোনো ছবি।
একজন সাধারণ মানুষ আমি। ধরুন, উত্তরবঙ্গের কোনো গ্রামে আদতে কী হয়েছে তাকি সহজেই জানা সম্ভব? তবে কাছের মানুষেরা অবশ্যই সহজে প্রকৃত তথ্যটা জানতে পারবেন। আমরা হুজুগে বাঙালি, বাচ্চার মাকেই ছেলেধরা বলে গণধোলাই দিয়ে প্রাণ নাশ করি। বিচার হাতে তুলে নেওয়ার উস্তাদ।
নারী ঘটিত গুরুতর ইস্যুতেও আমাদের অবস্থান তেমনি। না জেনেই অবলিলায় প্রচার করতে থাকি। অনেক সময়, ঘটনা কোন জায়গায় ঘটেছে ওইটাও জানি না।
এটা কেন হয়? হুজুগ। আমরা হুজুগে বাঙালি। আমরা কান কথায় চলি। দেখুন, আল্লাহ তাআলা কী বলেছেন, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা সৎ-চরিত্রবান, সরলমনা মুমিন নারীদের ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য (আখিরাতে) আছে মহা শাস্তি।’ (সুরা নুর : আয়াত ২৩)
সাক্ষী প্রমাণের ফিরিস্তি দেখুন, যারা কোনো সৎ ও নির্দোষ নারীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় তাদের অবশ্যই চারজন সাক্ষীর মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণকে সহজ করা হয়নি। কারণ, আল্লাহ জানতেন, মানুষ অপবাদ দেওয়ার উস্তাদ। চারজন সাক্ষী উপস্থাপন করতে না পারলে প্রত্যেককে ৮০টি করে বেত্রাঘাত করা হবে। সে ভুল হলে তার চরিত্রে কালি পড়বে। কারো ব্যাপারে তাদের সাক্ষ্য আর কখনো গ্রহণ করা হবে না। আর তখন থেকে তাদের পরিচয় হবে ফাসিক।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা সৎ নারীকে ব্যভিচারের অপবাদ দিল, অথচ চারজন সাক্ষীর মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে পারেনি, তাহলে তোমরা ওদের ৮০টি বেত্রাঘাত করো। কারো ব্যাপারে তাদের সাক্ষ্য আর কখনো গ্রহণ কোরো না এবং তারাই তো সত্যিকার ফাসিক। তবে যারা এরপর তাওবা করে নিজেদের সংশোধন করে নেয় (তারা সত্যিই অপরাধমুক্ত)। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা নুর : আয়াত ৪-৫)
আমার উস্তাদ আল্লামা মুহাম্মদ ইসহাক ফরিদী রহ. সাবেক এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, আপনারা কোরআনের একটি আয়াত বাস্তবায়ন করুন, দেশে খুন-ধর্ষণ থাকবে না। খুন-ধর্ষণ-চুরি বিলুপ্তির জন্য রাষ্ট্রে একটি আয়াত বাস্তবায়নই যথেষ্ট। রাজধানীর শীর্ষ কওমি মাদরাসা শেখ জনুরুদ্দীন রহ. দারুল কুরআন মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল আল্লামা মুহাম্মদ ইসহাক ফরিদী রহ. তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের শাস্তি হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী।’ (সুরা মায়িদা : ৩৮)
তিনি বলেছিলেন, একটি আয়াত দিয়ে শুরু করুন, দেখবেন সমাজে সব অপরাধ থেমে গেছে।
আজকাল তো অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। উকিলরা অপরাধীকে বাঁচাবার পথ বের করে। অবশ্যই নিরপরাধ মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করাও পুণ্যের কাজ। কিন্তু যা দৃশ্যমান অপরাধ, দৃশ্যমান ধর্ষণ ঘটনা- সে ক্ষেত্রে উকিলদেরও ভাবা উচিত।
লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক
