আজ International Workers’ Day (পহেলা মে: বিশ্ব শ্রমিক দিবস) বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিন। মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যা মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিক শুধুমাত্র একজন কর্মচারী নয়; বরং তিনি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সম্মানিত ব্যক্তি। আমাদের Prophet Muhammad (সা.) শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ কর।” এই হাদিস শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের ওপর জোর দেয়।
শুক্রবার পহেলা মে জুমুআ পুর্ব বয়ানে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি, ঢাকা গাউসিয়া মার্কেট জামে মসজিদের খতীব ও মারকাযুল উলূম খুলনার মুহতামিম মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া এ সব আলোচনা পেশ করেন।
তিনি আরো বলেন, ইসলামে শ্রমের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। হালাল উপার্জনকে ইবাদতের সমতুল্য গণ্য করা হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: “মানুষের জন্য তার চেষ্টা ব্যতীত কিছুই নেই” (সূরা নাজম: ৩৯)। এ আয়াত শ্রম ও প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে এবং শ্রমিকের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে উদ্বুদ্ধ করে।
মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া বলেন, এছাড়া ইসলাম শ্রমিকদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছে। মহানবীর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি তার অধীনস্থদের উপর জুলুম করে, আল্লাহ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। তাই মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায় ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইসলামের এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে শ্রমিকদের শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্য অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। বর্তমান বিশ্বে শ্রমিক অধিকার নিয়ে নানা আন্দোলন ও দাবি থাকলেও ইসলাম বহু আগেই এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
ইমাম পরিষদ সভাপতি তাঁর বয়ানে সমাজের সচেতন মহলকে পহেলা মে উপলক্ষে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ইসলামের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। কেননা সমাজের প্রতিটি স্তরে ইসলামের এই ন্যায়ভিত্তিক নীতিমালা বাস্তবায়নই গড়তে পারে একটি সাম্য ও মানবিক সমাজ।
হাআমা/
