আন্তর্জাতি ডেস্ক :: পাকিস্তানের জমিয়ত নেতা ও মাদরাসা দারুল উলুম নোমানিয়ারর প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস মাওলানা ইদরিসকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।
পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে মাওলানা ইদরিস নিজ মাদরাসা দারুল উলুম নোমানিয়ার উদ্দেশে রওনা হলে পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার গাড়িকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। হামলায় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন আহত হয়েছেন।
নিহত মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস পাকিস্তানের একজন সুপরিচিত আলেম ও মুহাদ্দিস। তার মৃত্যুতে দেশটির ধর্মীয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন আলেম, সামাজিক নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।
ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে অভিযান শুরু করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
শহীদ মাওলানা ইদরিস ১৯৬১ সালে চারসাদ্দার তারাংজাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাকিম মাওলানা আবদুল হক ছিলেন সে সময়ের সুপরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, যিনি ‘মুনাজিরে ইসলাম’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার দাদা মুফতি শাহজাদা ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের ফারেগ ও একজন শাইখুল হাদিস।
মাওলানা ইদরিস প্রাথমিক দীনি শিক্ষা লাভ করেন নিজ এলাকার জামিয়া নোমানিয়া মাদরাসায়। পরে উচ্চতর হাদিস শিক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম হাক্কানিয়ায় ভর্তি হন। পাশাপাশি তিনি পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ও ইসলামিয়াতে এমএ ডিগ্রিও অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি জামিয়া নোমানিয়ায় শিক্ষকতা শুরু করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শাইখুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর উস্তাদ হিসেবে পাকিস্তানের ধর্মীয় অঙ্গনে বিশেষ সম্মান লাভ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (ফজল) বা জেইউআই-এফের চারসাদ্দা জেলা আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দলটির জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক (সারপরস্ত-এ-আলা) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম মাওলানা হাসান জান শহীদের জামাতা ছিলেন। তার দুই ছেলে রয়েছে— একজন হাফেজ ও আলেম, অন্যজন চিকিৎসা শিক্ষায় অধ্যয়নরত।
