গত ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ১৫টি স্থানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল পর্যন্ত এই সিরিজ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭ ইসরায়েলি সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে তারা এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থাপনা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। হামলায় হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার, উৎপাদন কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করার দাবি করেছে আইডিএফ। ইসরায়েলি সামরিক রেডিওর তথ্যমতে, আজ সকালে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নবতিয়াহতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা অভিযানের পরিধি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের তুল এবং হারুফ গ্রামেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।
এদিকে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে হিজবুল্লাহও তাদের প্রতিরোধ জারি রেখেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা দির সিরিয়ান গ্রামের কাছে একটি ইসরায়েলি ডি-৯ সামরিক বুলডোজার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং এতে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় সাতজন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ড্রোন বিস্ফোরণে চারজন আহত হন, যাদের একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া আজ সকালে লেবানন সীমান্ত থেকে ড্রোন অনুপ্রবেশের সংবাদের পর কিরিয়াত শমোনা ও এর আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এবং পরবর্তীতে ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তা সম্প্রসারিত হলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমেনি। ইসরায়েলি বাহিনী ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষায় তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
টিএইচএ/
