নিজস্ব প্রতিবেদক :: কী বলেছেন মোজতাবা খামেনি। পেজেশকিয়ানকে দেখলে আপনার মনেই হবে না- লোকটি যুদ্ধ করছে আমেরিকার সঙ্গে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর দিকে গুরুতর আহত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো মোজতবা খামেনির সঙ্গে কোনো শীর্ষ নেতার সাক্ষাতের প্রকাশ্য তথ্য সামনে এলো।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মিজান নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার বৈঠকটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাষ্ট্র পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এই বৈঠকে অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে, তা হলো ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ এই নেতার মুখোমুখি হওয়া।’
স্বাক্ষাতের পুরো আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘তার ধরন, দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিষয়গুলো মোকাবেলার পদ্ধতি ছিল বিশ্বাস, শান্ত, সহমর্মিতা এবং সরাসরি সংলাপের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা।’
তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা সেখানে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইরানের প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং কোনো ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার কারণে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
তবে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বৈঠকটি স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।
