ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের টার্গেট করে যেভাবে সহিংসতা চালানো হচ্ছে, তা মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুসলমানরা তাকে ভোট দেয়নি—এ মর্মে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও হামলাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়ার শামিল। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার এমন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন বিজেপির উগ্র সমর্থকদের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে হামলা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের মুসলমানদের ওপর চলমান হামলার ঘটনায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র নিন্দা জানাতে হবে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশে মুসলমানদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিষয়ে নীরবতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বিবৃতিতে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
হাআমা/
