সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে থাকবে না জামায়াতে ইসলামী। দলটি এরই মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জামায়াতের দুজন শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারে বিরোধী দল জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকারি জোটের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। এজন্য ১৭ সদস্যের একটি তালিকার প্রস্তাব করা হয়। এতে সরকারদলীয় জোট থেকে ১২ ও বিরোধীদলীয় জোট থেকে পাঁচজন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিরোধী দলের কাছে পাঁচজনের নামও চাওয়া হয়। সরকারদলীয় জোট থেকে বিএনপির সাতজন এবং গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র থেকে পাঁচজনকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ কমিটিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে কারও নাম দেওয়া হয়নি। যার কারণে আটকে যায় বিশেষ কমিটি গঠন। বিষয়টি নিয়ে সংসদ অধিবেশনে দুই জোটের নেতাদের মধ্যে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি তুলে ধরে আলোচনাও হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধান সংশোধনে তারা আগ্রহী নয়। সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই জামায়াত সংশোধনে নেই, সংস্কারে আছে।
আগামী ৭ জুন সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি খবর চাউর আছে। এর মধ্যেই জামায়াত জানাল তারা বিশেষ কমিটিতে থাকছে না। যদি সংস্কারের জন্য কোনো কমিটি গঠন হয়, সেখানে তারা থাকবে। এটা দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে জানান দলটির দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি রফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘শুরু থেকেই সংবিধান সংস্কারের পক্ষে আমাদের মত। সংশোধন নয়। আমরা দলীয় অবস্থান পরিবর্তন করিনি। অর্থাৎ আমরা সংবিধান সংশোধনে নেই।’ একই সুরে মন্তব্য করেন দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি গণভোটের বাস্তবায়ন। অর্থাৎ সংস্কার। জনগণ গণভোটের মাধ্যমে ৪৮টি সংবিধান সংস্কার পাস করে দিয়েছে। এটা আবার বিল আকারে এনে কোনো পাসের প্রয়োজন নেই। জনগণ পাস করালে এখানে আবার জনগণের প্রতিনিধির পাস করানোর কিছু থাকে? সংসদের কাজ হলো এখন সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে এগুলো বাস্তবায়ন করা। সরকারি জোট আবার পেছনে চলে গেল কেন? আর সংশোধনের মাধ্যমে তো সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তো আমরা নীতিগতভাবেই একমত নই, তাই কমিটিতে যাব কীভাবে?’ অবশ্য সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার বিরোধী দলকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সরকারদলীয় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। সংসদ নেতা তাঁর বক্তব্যে উনিশবার বিরোধীদলীয় নেতার কাছে আরজ করে বলেছেন, আমরা ছাড়া আপনারা যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি আপনারা ছাড়া আমরা অসম্পূর্ণ। এটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমার নেতা তারেক রহমান প্রথম হাউসের (সংসদ) মধ্যে বলেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই বিপ্লবের ফসল। অতএব সবাই একমত হয়েই সংবিধান সংশোধন, সংস্কার করব।’
হাআমা/
