চট্টগ্রামে জনসমাবেশ ও মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধের মধ্যে গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার দুপুরে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে কিছু শিক্ষার্থী জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি আঁকার জন্য জড়ো হন। পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ একপর্যায়ে তিন জনকে আটক করে ভ্যানে তোলে। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থা বলেন, ‘দুপুরে কিছু শিক্ষার্থী নগরীর টাইগারপাস এলাকায় জুলাইয়ের গ্রাফিতি অংকন করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদের আঘাতও করে। কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়। তারা জুলাইয়ের গ্রাফিতি অংকন করতে গেছে। মিছিল-সমাবেশ করতে যায়নি, পুলিশ তাদের বাধা দেবে কেন?’
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর টাইগার পাস এলাকায় মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি আছে। তা অমান্য করে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ৫০-৬০ জন জড়ো হয়েছিল। তাদের সরে যেতে বললেও সরেনি। সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের গায়ে রঙ মারে। যারা রঙ মেরেছিল, তাদের কয়েকজন হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ান হাট পর্যন্ত জনসমাবেশ ও মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর পটভূমিতে, চট্টগ্রামের ওয়াসা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের পিলারে আঁকা জুলাই গ্রাফিতি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মুছে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে রোববার রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে জুলাই গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি দেওয়া হয়। পরে সিটি করপোরেশন যাওয়ার সড়কে মেয়র ডা. শাহাদাতকে দায়ী করে লেখা লেখেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ছাত্রদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা বিক্ষোভ করেন এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এনআর/
