আবশ্যিক ইবাদত ও কুরবানি

by Masudul Kadir

আবুল কাশেম আদিল :: আবশ্যিক ইবাদত প্রকাশ্যে করাই বিধেয়। ফরয নামায প্রকাশ্যে জামায়াতের সঙ্গে পড়তে হয়। যাকাত হিসাব করে যথাযথ হকদার খুঁজে খুঁজে আদায় করতে হয়। হজ গোপনে করার সুযোগ নেই।

যেটা আপনি করতে বাধ্য, না করার সুযোগ নেই, বরং না করা অকল্পনীয়—তাতে লোকদেখানো ব্যাপার নেই। আমি নিয়মিত পাঁচওয়াক্ত নামায পড়ি—এটা গর্বের বিষয় নয়, অহঙ্কারের বিষয় নয়। মুসলমানমাত্রেরই স্বাভাবিক ও নিয়মিত কর্তব্য।

বিজ্ঞাপন
banner

লোকদেখানোর বিষয় হতে পারে নফল তথা অতিরিক্ত আমলের ক্ষেত্রে। আমি তাহাজ্জুদ পড়ি, নফল রোযা রাখি, নফল সদকা করি—এগুলো দেখিয়ে বেড়ালে বা প্রচার করে বেড়ালে রিয়া হতে পারে। এগুলো করতে বাধ্য নই তবু করছি, এ কারণে এগুলো আত্মতৃপ্তির কারণ হতে পারে।
আসুন কুরবানী প্রসঙ্গে। এটি সামর্থ্যবানের ওপর আবশ্যিক ইবাদতের পাশাপাশি মুসলিম সংস্কৃতি ও উৎসবের অংশ। উৎসব গোপনে করা যায় না।

যার সামর্থ আছে, সে একটা মাঝারি মানের গরু কিংবা গরুর এক সপ্তমাংশ কুরবানী করল, এটা বড় কোনো ঘটনা নয়। এটা খুব সাধারণ একটা ঘটনা। সাধারণ ঘটনা ফেইসবুকে জানালে রিয়া হয় না।
একটা ছাগল কিংবা মোটামুটি মানের একটা গরু বা গরুর অংশ কুরবানী করলেই যথেষ্ট হয়। তা সত্ত্বেও বিশাল বড় গরু বা একাধিক গরু কুরবানী করার ব্যাপারটা প্রচার করার মধ্যে রিয়া থাকতে পারে। তবে সেই রিয়া যতটা না ধর্মীয়, তারচেয়ে বেশি সামাজিক। এক লোক প্রচার করে, সে প্রচুর নফল ইবাদত করে। এর মধ্য দিয়ে সে প্রমাণ করতে চায়, সে বিশাল বড় বুযুর্গ। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি যদি গর্বভরে বলে আমি পাঁচ লাখ টাকার গরু কুরবানী করেছি, এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য থাকে অর্থবিত্ত ও প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রদর্শন করা, নিজেকে বড় ইবাদতগুযার প্রমাণ করা নয়। এই দুই রিয়ায় স্পষ্ট পার্থক্য আছে।

ধর্মীয় রিয়া কিংবা সামাজিক প্রতিপত্তি প্রদর্শন, এটাও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। একজন গ্রাম্য মোড়লকে কয়েক লাখ টাকার বিশালদেহী গরু একা কুরবানী করতে দেখলে ভ্রু কুঁচকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এরকম সাইজের কয়েকটা গরু একজন শহুরে প্রতিষ্ঠিত ধনী কুরবানী করলে ভ্রু কুঁচকাবে না। অর্থাৎ বিষয়টা সামাজিক প্রভাব জাহির বলেও গণ্য হয় তখনই, যখন তা ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়।
লেখক : দাঈ ও গবেষক

কাজেই, আপনার কুরবানীর পশু যদি হয় আপনার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, তাহলে তার ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করতে হীনম্মন্যতায় ভোগার কারণ নেই। কুরবানী ইবাদতের পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের উৎসব। উৎসব ও সংস্কৃতি নির্দ্বিধায় উদযাপন করুন।

আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী দেশটিতে যখন কুরবানী করা জীবন-মরণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন আমাদের কাছে কুরবানীর উৎসব নতুন তাৎপর্য নিয়ে হাজির হয়েছে। ইসলাম আমাদেরকে যেভাবে লোকদেখানো ইবাদত করতে নিষেধ করেছে, তেমনি নিয়ামত প্রকাশ করারও নির্দেশ দিয়েছে। উপমহাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় আমরা যে কুরবানী করতে পারছি, এটা অনেক বড় নিয়ামত। এ ক্ষেত্রে নিয়ামত প্রকাশ করে শুকরিয়া আদায়ের আমল করাই বেশি যৌক্তিক।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222