প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য ঘরমুখো মানুষের ভিড় রাজধানীর বাস স্টেশনগুলোতে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর অন্যতম বাস টার্মিনাল সায়দাবাদ ও এর আশেপাশের যাত্রাবাড়ী, দোলাইপাড়ে রীতিমতো যাত্রীদের ঢল নেমেছিল।
ঈদের এখনো ছয় দিন বাকি থাকতে এভাবে যাত্রীদের ভিড় অবাক করেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের।
যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। যাত্রীরা জানিয়েছেন, রুটভেদে ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে গেছে।
তবে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা দাবি করেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। আগে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নেওয়া হতো। এখন নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।
পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারও মোটামুটি যাত্রীর চাপ ছিল। শুক্রবার যাত্রী উপচে পড়ছে। আগামী কয়েক দিন যাত্রীর এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন তারা।
শুক্রবার সকালে সায়েদাবাদ, ধোলাইপাড়সহ আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির বাস কাউন্টারগুলোর সামনে শত শত মানুষের ভিড়। যাত্রী বেশি হওয়ায় অনেকেই গন্তব্যে যেতে কাঙ্খিত বাস পাচ্ছেন না। আগে থেকে টিকিট না কাটায় অনেককে ঘণ্টা পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাসস্ট্যান্ডে।
ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে দোলাইপাড় এসেছেন আবু সাঈদ। তিনি বলেন, আমার বাড়ি পটুয়াখালী। আমি আমার নিজের বাড়ি যাচ্ছি। সঙ্গে বোন ও এক ভাগ্নি ও ভাগ্নেকে নিয়ে যাচ্ছি। ওদেরকে ওদের বাড়ি নামিয়ে দিয়ে আমি আমাদের বাড়ি চলে যাব। বোনজামাই চাকরি করে, সে ঈদের দু-একদিন আগে যাবে।
আবু সাঈদ আরও বলেন, আমাদের ওখানে যাওয়ার নিয়মিত ভাড়া ৬০০ টাকা। কিন্তু এখন ভাড়া দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা। ২০০ টাকা বেশি দিয়েও টিকিট পাচ্ছি না। অন্য সময় বাস মালিকরা ৬০০ টাকা দিয়ে যাত্রী পরিবহন করলে যদি লাভ হয়, তবে ঈদের সময় কেন বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়। তখন তো আরও কমানোর কথা।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান আবু সাঈদ।
পটুয়াখালী রুটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে কিংস পরিবহনের কর্মী আব্দুল কাদের বলেন, সরকার নির্ধারিত আমাদের ভাড়া ৯০০ টাকা। সারা বছর আমরা কম নেই। এখন যে ভাড়া নিচ্ছি সেটাও নির্ধারিত করার চেয়ে কম।
সাকুরা পরিবহনের কর্মী শহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের এখনো ছয় দিন বাকি, তার আগেই এত যাত্রী আগে দেখা যায়নি। ঈদের দু-একদিন আগে হয়তো যাত্রী পাওয়া যাবে না। আগে চলে গেল তো পরে ফাঁকা থাকবে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার টানা সাত দিনের ছুটির ব্যবস্থা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত টানা সাত দিন ছুটি কাটাবেন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
হাআমা/
