দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানি করছেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। গতকাল মূল ঈদ উদযাপিত হলেও আজ শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি এবং বাসাবাড়ির নিচে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে পশু জবাই করতে দেখা যায়। প্রথম দিনে সময় ও সুযোগের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে যারা কোরবানি করতে পারেননি, তারাই মূলত দ্বিতীয় দিনে এই ধর্মীয় বিধান পালন করছেন। এর পাশাপাশি অনেকে পারিবারিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে সন্তানের আকিকার জন্য নির্ধারিত পশুটিও আজ জবেহ দিচ্ছেন।
আজ সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রথম দিনের তুলনায় পশুর সংখ্যা কম হলেও উৎসবের আমেজ এখনো অম্লান। কোরবানি দেওয়া ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা জানান, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং গরিব-দুঃখীদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রথম দিন কসাইয়ের তীব্র সংকট এবং জায়গা স্বল্পতার কারণে অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পশু জবাই করতে পারেননি। আজ জুমার নামাজের আগে ও পরে সুবিধাজনক সময়ে তারা কোরবানি সম্পন্ন করছেন। কোরবানি শেষে পশুর গোসত কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা। এরপরই শুরু হবে দরিদ্র ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে গোসত বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা।
এদিকে গতকাল ঈদের প্রথম দিন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জায়গার পাশাপাশি রাজধানীর অলিগলি, রাজপথ, বাড়ির গ্যারেজ কিংবা ফুটপাতেও ব্যাপক হারে পশু কোরবানি হয়েছিল। প্রথম দিনের কোরবানির পর দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করলেও আজ দ্বিতীয় দিনে যারা কোরবানি দিচ্ছেন, তারা নিজ উদ্যোগেই সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছেন। পশুর রক্ত ও বর্জ্য সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পাশাপাশি পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে চারপাশ পরিষ্কার করতে দেখা গেছে অনেককেই। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে নগরীকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত করা সম্ভব হয়।
টিএইচএ/
