ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, সীমান্তে মানুষ পুশইনের মতো বর্বর ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অন্তত ১৩ জনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। এছাড়া গত ২৮ মে রাতে সীমান্তের শূন্যরেখার (জিরো পয়েন্ট) কাছে ১০০ থেকে ১১০ জনকে জড়ো করার ঘটনাও ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএসএফের এসব কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রচলিত সীমান্ত রীতিনীতির পরিপন্থী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হলেও, এর নেতিবাচক প্রভাব এখন বাংলাদেশে পড়তে শুরু করেছে। ফলে বিষয়টি আর শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি এখন আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহন করছে।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গা সংকটের মতো একটি বিশাল মানবিক সংকট মোকাবিলা করছে। ফলে দেশ নতুন করে আর কোনো মানবিক সংকটে জড়াতে চায় না। মাত্র কয়েকজনকে পুশইনের ঘটনা বলে বিষয়টিকে হালকাভাবে বা ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের আগ্রাসী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত, কার্যকর ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিষয়টি শক্তভাবে উত্থাপন করতে হবে।
মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানও করে থাকে, তবে তাকে রাষ্ট্রীয় ও দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ফেরত পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জোরপূর্বক মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য এবং মানবিক নয়; বাংলাদেশ এ ধরনের আচরণ কখনোই মেনে নেবে না। বিবৃতিতে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
টিএইচএ/
