৩৬নিউজ ডেস্ক: একদিকে যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের রক্ত ঝরছে, অন্যদিকে চলছে ফুটবল বিশ্বকাপের নামে বিলিয়ন ডলারের আমোদপ্রমোদ ও বিনোদনের আসর। মানব সমাজের এমন দ্বিমুখী রূপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন ও চিন্তাশীল পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশের সন্তান, মালয়েশিয়ার ইসলামি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসআইএম) ভিজিটিং লেকচারার এবং ‘আদল অ্যাডভাইজরি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. ইউসুফ সুলতান।
ড. ইউসুফ সুলতান তাঁর লেখায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, বর্তমানে গাযযায় চলমান বর্বরতায় শহীদের সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজারে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ২ লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়া বাস্তুচ্যুত ২০ লাখের বেশি মানুষ খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতিতে দিনাতিপাত করছেন। অন্যদিকে ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ এবং আহত হয়েছেন ২৬ হাজার ৫০০ মানুষ। পাশাপাশি লেবাননেও নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের বিপরীত চিত্রটি তুলে ধরে এই ইসলামি অর্থনীতি ও শরিয়াহ গভর্ন্যান্স গবেষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে ফিলিস্তিন ও লেবাননের মুসলিমরা রক্তের সাগরে ভাসছে, সেখানে ফুটবল বিশ্বকাপের নামে উৎসব, নাচ-গান, জুয়া, মদ আর অশ্লীল উন্মাদনায় খরচ করা হচ্ছে ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৭২ হাজার কোটি টাকার সমান। এক অঞ্চলের মানুষের হাহাকার আর অন্য অঞ্চলের বিলিয়ন ডলারের উন্মাদনাকে তিনি বর্তমান মানব সমাজের এক আশ্চর্য দ্বিমুখী চেহারা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শরিয়াহ ফাইন্যান্স ও ইসলামি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ড. ইউসুফ সুলতান মুসলিম সমাজকে এই বৈশ্বিক উন্মাদনা নিয়ে আত্মোপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল মুসলিম হিসেবে এই ধরনের ভোগবাদী ও অপচয়মূলক উন্মাদনায় গা ভাসানো আমাদের কাছ থেকে কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। মুসলিম উম্মাহর এই ক্রান্তিকালে বিনোদন ও আমোদপ্রমোদে মত্ত না হয়ে বরং নির্যাতিত ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানো এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করাই প্রকৃত ইমানদারদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
টিএইচএ/
