৩৬নিউজ ডেস্ক: ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ক্ষমতাচ্যুতির প্রায় দুই বছর পর দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাঁর দলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়গুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তিনি কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা মৃত্যুকে ভয় পান না। ১৯৭৫ সালে পরিবার হারানোর বেদনা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তিনি চলতি বছরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁর দল কোনো কাগজের সংগঠন নয়, বরং এটি বাংলার মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক শক্তি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে এখন কোনো গণতন্ত্র, আইনের শাসন বা নিরাপত্তা নেই। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নেতাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাময়িকভাবে কার্যালয় বন্ধ রাখা গেলেও জনগণের মন থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলীয় মিছিল শুরু হয়েছে যা দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ। এছাড়া বিএনপির সাথে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা বিচার নিয়ে কোনো গোপন আলোচনার খবরকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা বলে নাকচ করে দেন।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের উঠে আসা ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সংখ্যালঘুরা কোনো ভোট ব্যাংক নয়, তারা এ দেশের সমান মর্যাদার নাগরিক। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিয়ে কথা বলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও সংখ্যালঘুদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো হামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর হামলা শামিল।
ভারতে নিজের বর্তমান জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত জীবন নেই এবং তাঁর পুরো জীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গীকৃত। প্রবাসী জীবনে পরিবারের সাথে যোগাযোগ থাকলেও তাঁর মন সবসময় বাংলাদেশে পড়ে থাকে বলে তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
টিএইচএ/
