সম্প্রীতির বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : সাধারণ আলেম সমাজ

by Fatih Work

বাংলাদেশ ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ, যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ নানা ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করে আসছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই সহাবস্থানের শক্ত ভিতকে দুর্বল করার জন্য সময়ে সময়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও অপপ্রচারের আশ্রয় নেওয়া হয়, এটি দেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ২৩টি হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ফল বলে দাবি করে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। এ ধরনের দাবি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ভুলভাবে রিপ্রেজেন্ট করে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সদ্য প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, সংগঠনটির এই দাবিগুলো বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং পুরোটাই সাজানো নাটক এবং ভিত্তিহীন।

বিজ্ঞাপন
banner

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দেওয়া ২৩টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ২২টিরই কোনো সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপট নেই। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে চুরি-ডাকাতি, পারিবারিক কলহ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, দুর্ঘটনা, এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও রয়েছে। অথচ সংগঠনটি শুরু থেকে এগুলোকে সাম্প্রদায়িক হত্যা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। ২৩টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে একটি ঘটনায় ভুক্তভোগী এমন ব্যক্তিও আছেন, যিনি গত বছরের জানুয়ারিতে আহত হয়ে ডিসেম্বর মাসে মারা যান, অথচ সেটিকেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার উদ্দেশ্য কী হতে পারে? এই প্রশ্ন তুলে উত্তর খোঁজার আর দরকার নেই। দেশের বহুধর্মীয় সহাবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে উসকে দেয়াই ছিল এদের প্রধান লক্ষ্য। সেই সাথে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক দেশ চিহ্নিত করতে চায়, যেটা ফ্যাসিস্ট রেজিমে পতিত সরকারের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত হাতিয়ার ছিল। কারণ, সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা কিংবা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালানোই ছিল বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মূল এজেন্ডা।

বাংলাদেশের মূল পরিচয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের দেশ হিসেবে। যারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে চায়, তারা ইতিহাসের বুকে কখনোই সফল হয়নি, হতে পারবেও না। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক প্রশ্ন ও সংকটের আত্মমীমাংসা। এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের একপেশে মুজিববাদী বর্ণনার অবসান ঘটেছে। ফলে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মতো বস্তাপঁচা আদর্শ পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই যুগে এসে জেনজি প্রজন্ম বহুধর্মীয় সহাবস্থান নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সংগঠনটি জন্ম হয়েছে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রেক্ষিতে। এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই সবচেয়ে বেশি ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে পক্ষপাতিত্বের চর্চা করে এসেছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত একজন হিন্দু নেতা হিসেবে পরিচিত এবং ফ্যাসিস্ট রেজিমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট গণহত্যার মামলাও হয়েছে একাধিক থানায়। এই পক্ষপাতদুষ্ট সংগঠন দেশের ভাবমূর্তি ও জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের মূল কারিগর, স্বৈরাচারের দোসর এবং সুবিধাভোগী। সংগঠনটির দায়িত্বশীলদেরকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আমরা সাধারণ আলেম সমাজসহ দেশের বিবেকবান নাগরিকরা সাম্প্রদায়িক উসকানিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। সেই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানাই, যতদ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদকে আইনের আওতায় এনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখুন। বাংলাদেশে আর কোনো অপশক্তিই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত নড়বড়ে করতে পারবে না, এটাই হোক আমাদের শপথ।

সাম্প্রদায়িক বিভাজন নয়, একতার বাংলাদেশই হোক আমাদের চূড়ান্ত জয়গান।

-প্রেস রিলিজ

এএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222