গাজায় গণহত্যা বন্ধে ইইউর প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান

by naymurbd1999@gmail.com

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও চলমান গণহত্যা বন্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তিনটি বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতা। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইইউর নীরবতা ইতিহাস ক্ষমা করবে না। বুধবার (৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দ্য লেফট, গ্রিনস/ইউরোপিয়ান ফ্রি অ্যালায়েন্স এবং প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স অব সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস–এর নেতারা ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ইউরোপীয় কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা এবং ইইউর পররাষ্ট্র নীতির প্রধান কায়া কালাসের উদ্দেশে এক যৌথ চিঠি পাঠান। এতে তারা গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে তাত্ক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সমর্থনের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি বাতিল এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন
banner

চিঠিতে বলা হয়, গাজার পরিস্থিতি আর কেবল জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, এটি স্পষ্টভাবে গণহত্যা। অথচ ইউরোপীয় কমিশন ও কাউন্সিল প্রয়োজনীয় দ্রুততা ও দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে, যা ইইউ চুক্তি, নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন অ্যাগ্রিমেন্ট স্থগিত, ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-কে পূর্ণ অর্থায়ন পুনর্বহালের আহ্বান জানান।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিদের সহিংসতা বেড়ে গেছে এবং গাজা স্থায়ীভাবে দখলের পরিকল্পনা চলছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা বলেন, ইইউর পররাষ্ট্র সেবা ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে যে ইসরায়েল ইইউ-ইসরায়েল চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তবুও চুক্তি কার্যকর আছে এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।

চিঠিতে নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, “আর দেরি সহ্য করা যাবে না। আরও রক্তপাত বরদাস্ত করা যাবে না। ব্যাপক ভোগান্তি ও দায়মুক্তির মুখে নীরবতা ইতিহাস ক্ষমা করবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এখনই দায়িত্ব নিতে হবে।”

উল্লেখ্য, গাজায় গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৬১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে এবং দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222