গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড়ে পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় এসব নিহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নেই এক সঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে গোয়ালে গরু নিয়ে আসার সময় হঠাৎ বজ্রপাতের কবলে পড়েন তিন ব্যক্তি। এতে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (৪০), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) এবং নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হয়। এ সময় পাশে থাকা একটি গবাদিপশুও মারা যায়। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই গ্রামের তিন তরুণের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরাচরে বজ্রপাতে মানিক মিয়া (৩৫) নামে এক ঘোড়াচালকের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান মন্ডল। অন্যদিকে সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বজ্রপাতের ঘটনায় জেলায় অন্তত দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাঘাটার পদুম শহরে গোসল করার সময় বজ্রপাতে আহত একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার বুলবুলির চরে বজ্রপাতে আহত আরেক ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
টিএইচএ/
