এশিয়ার সেরা ক্রিকেট দল নিয়ে প্রশ্ন তুললে নিঃসন্দেহে ভারতের নামই আসে প্রথমে। তবে দ্বিতীয় সেরা দল কে ? এই প্রশ্নে ভক্তদের মধ্য রয়েছে তর্ক-বিতর্ক। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। এই চার পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে আফগানদের পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক। তাই অনেকেরই বিশ্বাস ছিল, কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে রশিদ খানের দলই এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ের ব্যর্থতা সেই ধারণায় বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এশিয়া কাপে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হোয়াইটওয়াশের শিকার হয়েছে আফগানিস্তান। সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাই ‘দ্বিতীয় সেরা দল’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েন দলের প্রধান কোচ জোনাথন ট্রট।
“এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল? আসলে বর্তমানে আমরা সেই জায়গায় নেই। সামাজিক মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে যা বলা হচ্ছে, সব ঠিক নয়। আমাদের আরও ভালো হতে হবে, আরও উন্নতি করতে হবে। আমি চাই আমরা একসময় সেরা দল হই, তবে এখনই তা বলা যাবে না।”
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে আফগানিস্তানের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছেন ট্রট। নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“হতাশাজনক পারফরম্যান্স। বাজেভাবে হেরেছি আমরা। কিছু পরিবর্তন আসবে দলে। কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল না, তরুণদের সুযোগ দিতে চেয়েছি। বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল গোছানোর প্রক্রিয়া চলছে। নভেম্বরের শেষে পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে—সেখানে এমন দল নামাতে চাই যারা ম্যাচ জেতা শুরু করবে।”
এর আগে আফগান অধিনায়ক রশিদ খানও জানিয়েছিলেন, ‘দ্বিতীয় সেরা দল’ তকমা তারা নিজেরা দেয়নি, বরং মিডিয়াই দিয়েছে। তবে সিরিজে দল হোয়াইটওয়াশ হলেও ব্যক্তিগতভাবে বল হাতে রশিদ ছিলেন কার্যকর।
অধিনায়কের প্রশংসা করে ট্রট বলেন,
“রশিদ খানের বিপক্ষে খেলার সময় যেকোনো দলই চিন্তায় থাকে। কারণ সে নিয়মিত উইকেট নিতে পারে। সে শুধু অধিনায়কই নয়, দলে আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। মাঠে তার পারফরম্যান্স বাকিদের অনুপ্রাণিত করে। কোচ হিসেবে আমি চাই সবাই যেন তার মতো আত্মবিশ্বাসী হয় এবং চাপের মধ্যেও পারফর্ম করতে পারে।”
বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের এই ফলাফল আফগানিস্তানের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিলেও কোচ ট্রটের আশা—ভবিষ্যতের সিরিজগুলোতে অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াবে দল।
টিএইচএ/
