রাজা হেমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের রাজবাড়ীতে সুরঙ্গের সন্ধান

by Fatih Work

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর সিপাইপাড়া/দরগাপাড়া এলাকায় অবস্থিত রাজা হেমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের পুরনো বাড়ি ভাঙার সময় মাটির নিচ থেকে একাধিক সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসন বাড়িটি ভাঙার কাজ আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, “এ জায়গাটির মালিক ছিলেন রাজা হেমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়। এটি ছিল দিঘাপতিয়া রাজবংশের রাজা প্রমথনাথের ছেলে রাজা হেমেন্দ্র রায়ের সম্পত্তি। পরে তাঁর ছেলে সন্দীপ কুমার রায় এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি আছে, পুঠিয়া থেকে রাজশাহীতে এলে মহারানি হেমন্তকুমারী এই বাড়িতে অবস্থান করতেন।” ভূমি অফিসে কাগজপত্রে জমির মালিকের ঠিকানা লেখা আছে দিঘাপতিয়া স্টেট, বলিহার, নাটোর।

নথিপত্রে দেখা গেছে, ‘১৯৮১ সালে এই সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি (ভিপি) ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে বলা হয়, ১৯৭৪ সালের পর আর কোনো সম্পত্তি ভিপি ঘোষণা করা যাবে না।’ ১৯৭২ সালে এ সম্পত্তির আরএস রেকর্ড প্রকাশ হয়। তাতে মালিক হিসেবে নামে আছে সন্দীপের।

জানা গেছে, বাড়িটি ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের নামে ইজারা ছিল। ইজারা বাতিল করে বাড়িটি অপসারণের জন্য সম্প্রতি বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস মাত্র ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় সবকিছুই এক ব্যক্তির কাছে নিলামে বিক্রি করে। এ বিষয়ে গবেষক তসিকুল ইসলাম রাজা বলেন, “বাড়িটির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব আছে। এটি সংরক্ষণ করা উচিত ছিল সরকারের।”

বাড়িটি জরাজীর্ণ হওয়ায় জেলা প্রশাসন এটিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে নিলামে বিক্রি করে দেয়। নতুন মালিক ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করলে মাটির নিচের মেঝেতে কয়েকটি সুড়ঙ্গের সন্ধান মেলে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দেখা গেছে, বাড়িটি ভাঙার কাজ করছেন পাঁচজন শ্রমিক। ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে বাড়ির সিংহভাগ। সামনের দিকের দুটি ঘরের মেঝের নিচে পাওয়া গেছে কয়েকটি সুড়ঙ্গ। নিলামে ভবন ক্রয় করা ব্যক্তির ব্যবস্থাপক মো. অপু বলেন, “এই সুড়ঙ্গ প্রাকৃতিক এসি। আগেকার দিনে ধনাঢ্য ব্যক্তিরা তাদের ঘরের নিচে এ রকম সুড়ঙ্গ রাখতেন। তাতে পানি জমে থাকত। এতে ঘর থাকত ঠাণ্ডা।” থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, “ভবনটির কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব আছে কি না, তা আমার জানা নেই। আগে জানালে আমরা ভাঙতাম না।”

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, “বাড়িটির ব্যাপারে তার ধারণা ছিল না। বোয়ালিয়া থানার এসি ল্যান্ড ও সিটি করপোরেশনকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছেন তিনি।”

বর্তমানে বাড়িটির একটি সুড়ঙ্গ থেকে অবিরাম পানি বের হচ্ছে, যা সরানোর জন্য সেচযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গগুলো ঠিক কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি, যা নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ভবনটি ভাঙার কাজ স্থগিত করেছে।

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222