ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের জন্য খনন করা গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে পার হয়েছে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটায় তানোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিশুটির স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের (ভেন্টিলেশন) জন্য যে পাইপটি গর্তের ভেতরে ঢুকানো হয়েছিল সেটি এখন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত শিশুটির আওয়াজ পেয়েছিল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বিকেলের পরে সারারাত থেকে এখন পর্যন্ত বাচ্চাটির কোনো আওয়াজ পাওয়া যায়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই উদ্ধারকর্মী। তবে গতকাল সারারাত এবং সকালেও ভেন্টিলেশন পাইপ চালু ছিল। বৃহস্পতিবার সকালের পর সেটি বন্ধ করা হয়। একইসাথে গর্তের ভেতরে খননকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, “গর্তের ভেতরে যাতে মাটি ঝরে না পড়ে সে কারণে আপাতত ভেতরে খোঁড়া বন্ধ আছে।” তিনি আরো বলেন, “৪০ ফিট পর্যন্ত মূলত খোঁড়া হয়নি, সকাল পর্যন্ত ৩০ ফিট পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছিল। এখন ৩৫ ফিটের মতো খুঁড়ে নিচে কাজ করা যাচ্ছিলো না, মাটি ভেঙে ভেঙে পড়ছিলো। যার কারণে এখন উপরে যে জায়গাটা ভেঙে পড়ার মতো আশঙ্কা আছে, ওই অংশটা ১০ ফিটের মতো। ওপরে বাম সাইডের দিকে খুঁড়ছে।”
এখন মাটির নিচে খননকাজ আপাতত বন্ধ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিচে খোঁড়াটা বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ ওপরে যেগুলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ওই অংশগুলা আগে দেখে তারপরে আবার খুঁড়বে।” ৩০ থেকে প্রায় ৩৫ ফিট পর্যন্ত খোঁড়ার পরে তিনি ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে ফিরে গেছেন।
গতকাল শিশুটি গর্তে পড়ার পর তিনিসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। সেখানে যাওয়ার পর যখন গর্তের গভীরতা মাপেন, তখন তা ছিলো ৩৩ ফিট। ফায়ার ফাইটার মেহেদী হাসান বলেন, “এখন প্রায় কাছাকাছি চলে গেছে খুঁড়ে। হয়তো বা আর দুই বা চার ফিট খুঁড়লে বাচ্চাটাকে পাওয়ার আশা করছি।”
এদিকে সকালে পুলিশ এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গতকাল বুধবার দুপুর একটার দিকে তানোর উপজেলার কোয়েল হাট পূর্বপাড়া গ্রামে আগেই খনন করা একটি গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। ঘটনাস্থলে মূল গর্তের পাশ থেকে মাটি কেটে পথ তৈরি করে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
এমএআর/
