কক্সবাজারের উখিয়ায় ব্যবসায়িক কাজে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এক ব্যবসায়ীর মরদেহ তিন দিন পর জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ীর নাম হাসেম (৩০)। তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দোছড়ি এলাকার সালেহ আহমেদ’র পুত্র।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা নিখোঁজ হাসেমকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ফলাইয়া পাড়ার নার্সারি এলাকার জঙ্গলের মধ্যে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন পুর্বে ভিক্টিম হাসেম ব্যবসায়িক কাজে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেলে কৌশলে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে দক্ষিণ ফলিয়া পাড়ার নার্সারি এলাকার জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুত্রে জানা যায়, নিহত হাসেম দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ রাজাপালং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দোছড়ি এলাকায় বসবাস করছিলেন।
পরিবারের দাবি, ব্যবসায়ী হাশেমকে অপহরণ পুর্বক হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র জড়িত আছে। তাদের মধ্যে রয়েছে, দোছড়ি এলাকার ৪ জন গরু ব্যবসায়ী।
নিহতের পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসী সীমান্তবর্তী ও ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজাপালং ইউনিয়নের ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছৈয়দ হামজার ভাষ্যমতে, “হাসেমসহ দুই ব্যবসায়ী ক্যাম্পে গেলে একজন ফিরে আসলেও হাসেম নিখোঁজ হন। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর অপহরণকারীরা তাকে হত্যা করে ফেলে রাখে।”
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আহমেদ জানান, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমএআর/
