পঞ্চবটি-মুক্তারপুরের আড়াইহাজার কোটি টাকার দ্বিতল সড়কে উদ্বোধনের আগেই ফাটল

by Fatih Work

আড়াইহাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড বা দ্বিতীয় স্তরের সড়ক উদ্বোধনের আগেই মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের নিচের অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের নিচের সড়কের কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের অংশে এ ফাটল দেখা যায়। গত বছরের নভেম্বরে ভূমিকম্পে এই প্রকল্পের ৭৭ নম্বর পিলারে ফাটল ধরা পড়ে। তখন থেকেই প্রকল্পের নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে আলোচনা চলছিলো। নতুন করে নিচের সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেই শঙ্কা আরো ঘনীভূত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শত বছরের স্থায়িত্বের কথা বলা হলেও ঢালাইয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই সড়কে ফাটল ধরেছে। এতে ভবিষ্যতে সড়কের নিরাপত্তা ও টেকসই নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন— এক মাসেই যদি এমন অবস্থা হয়, কয়েক বছর পর সড়কের দশা কী হবে?

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল সরকার বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় স্তরের সড়ক নির্মাণ হলেও কাজের মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।” পিলারে ফাটলের পর এখন নিচের সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন।

কলেজ শিক্ষার্থী সুলতান মাহমুদ জানান, “মাত্র এক মাস আগে ওই অংশের আরসিসি ঢালাই শেষ হয়েছে। এখনো ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়নি। তাতেই যদি ফাটল দেখা দেয়, ভারী যান চলাচল শুরু হলে পরিস্থিতি কী হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ঢালাইয়ের সময় প্রকৌশলীদের উপস্থিত থেকে মান অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করা জরুরি।”

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান জানান, “স্থানীয়রা যেটিকে ফাটল বলছেন সেটি আসলে ফাটল নয়। সড়কে প্রতি ১২ মিটার পর পর জয়েন্ট থাকে এবং এটি জয়েন্টের চিহ্ন।”

তবে প্রকৌশলীর এই বক্তব্য মানতে নারাজ স্থানীয়রা। তাদের দাবি, জয়েন্টের দাগ সাধারণত সোজা হয়, আঁকাবাঁকা নয়। এ ছাড়া জয়েন্ট থাকলে ককশিট থাকার কথা, যা ওই স্থানে নেই। তাই দায় এড়াতেই ফাটলকে জয়েন্ট হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে পঞ্চবটি থেকে মোক্তারপুর পর্যন্ত ১০ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ৯ দশমিক ০৬ কিলোমিটার অংশে এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ২০২৬ সালের জুনে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222