ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অন্তত ৮ সদস্য নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিক্ষোভ চলাকালে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এ তথ্য জানায় আল জাজিরা।
ডলারের বিপরীতে রিয়ালের ইতিহাসের সর্বনিম্ন দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথমে তেহরানে রাস্তায় নামেন ব্যবসায়ীরা। পরে এই আন্দোলন রাজধানীর বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
বিক্ষোভ শান্ত করতে সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সীমিত সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে এসব উদ্যোগেও আন্দোলন থামেনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে হতাহত হচ্ছে উভয় পক্ষ।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, এ পর্যন্ত বিক্ষোভে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। একই সঙ্গে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় অন্তত ৩০০ পুলিশ ও আইআরজিসি সদস্য আহত হয়েছেন।
এরই মধ্যে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগ। দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের দাবি, সরকারি ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলাকারীরা সশস্ত্র নাশকতাকারী। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখাও জানিয়েছে, তথাকথিত শত্রুর পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক দেন এবং সতর্ক করে বলেন, অস্থিরতা দমনে কর্তৃপক্ষ কোনো ছাড় দেবে না। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, সরকার বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের চেষ্টা করছে। তবে তিনি বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভূমিকার অভিযোগ তোলেন।
টিএইচএ/
