মোঃ নিজাম উদ্দিন স্বাধীন (স্টাফ রিপোর্টার)
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এলাকার প্রতি তানভীর আহমেদ রবিনের যে ভালোবাসা এবং আপনাদের তার প্রতি যে ভালোবাসা তা দেখে মনে হচ্ছে আমি রবিনকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে একটি সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়ার বিষয় নয়। এটি হতে হবে দেশ গঠনের হাতিয়ার, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের উপলক্ষ।”
৯ই ফেব্রুয়ারী (সোমবার) সন্ধ্যায় শ্যামপুর থানাধীন জুরাইন রেলগেট সংলগ্ন জুরাইন দয়াগঞ্জ লিংক রোডে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের আয়োজনে এক পথসভায় তিনি একথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি মনে করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পরিকল্পনা ও কর্মসূচি দরকার। কারো গিবত গাইলে দেশের উন্নয়ন হয় না। তবে অন্য কোনো দলের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই; তাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে বিএনপিকে দায়িত্ব প্রদান করা জরুরি। ঢাকা-৪ এর মানুষ ধানের শীষকে ভোট দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানের পথ সুগম করবে।
৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সালাউদ্দিন আহমেদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আপনারা। তিনি দাবি করেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে দায়বদ্ধ নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন, আর সেই দায়িত্ব পালনে বিএনপিই সক্ষম।
নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এমন কোন প্রতিশ্রুতি দেব না যা বাস্তবায়নযোগ্য না। যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে তা বাস্তবায়নযোগ্য হতে হবে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, বেকারত্ব দূরীকরণ, শিল্পায়নের মাধ্যমে “শিল্পের বাংলাদেশ” গড়া এবং সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে যেন মানুষ নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমাতে পারে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।
তানভীর আহমেদ রবিনের বক্তব্য ফুটে ওঠা এলাকার মানুষের দুঃখ দুর্দশার বিষয় নিয়ে বিএনপি কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের যে সকল সমস্যা আজ রবিন তুলে ধরেছেন তাতে মনে হয়েছে আপনাদের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে এবং আগামী ১২ তারিখ বিএনপি সরকার গঠন করলে আপনাদের প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান করা হবে।
তারেক রহমান ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, একটি দলের নকল সীল ব্যবহার করার চেষ্টা করে ধরা খেয়েছে এছাড়াও বিকাশ নম্বর ও এনআইডি নম্বর চাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
সবাইকে বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিপক্ষে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।নির্বাচনের দিন ষড়যন্ত্রকারীরা কোনো না কোনো পরিকল্পনা করবে। ভোটের দিন আপনারা খুব ভোরে ভোট দিতে যাবেন এবং ভোট দিয়েই কাজ শেষ নয়। সজাগ থাকতে হবে কোন প্রকার চক্রান্ত যেন কেউ করার সুযোগ না পাই। ফলাফল না নিয়ে ঘরে ফেরা চলবে না।
ফ্যাসিবাদী সরকারের অত্যাচারের কথা বলতে গিয়ে গুম, খুন ও হত্যার প্রসঙ্গ সামনে এনে বলেন, মন খুলে মতামত দেওয়ার স্বাধীনতার জন্যই ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল সবাই খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিরাপত্তা পাবে এবং স্বাধীনভাবে মতামত দিয়ে দায়বদ্ধ সরকার গঠন করবে যে তাদের জন্য কাজ করবে। সেই ত্যাগকে সম্মান করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়তে হবে।
ফ্যাসিস্টের নির্যাতনের মধ্যেও দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে ভেবেছেন খালেদা জিয়া উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন দেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমার আর কোন ঠিকানা নেই। এদেশের মানুষ আমার আপনজন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এ দেশের মানুষের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। দেশকে ভালোবাসা ও মানুষকে মুক্তি দেওয়ার চিন্তাই ছিল তাঁর রাজনীতি।
সবশেষে তিনি বলেন, “সময় এসেছে সঠিক প্রতীক বেছে নেওয়ার। ১২ তারিখের নির্বাচন হতে হবে দেশ গঠনের, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ও ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন।” এলাকার ভাগ্য পরিবর্তনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার মতো আমিও বিশ্বাস করি “করবো কাজ, গড়বো দেশ।সবার আগে বাংলাদেশ”
