ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের মারধর, হুমকি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দোকানে চাঁদাবাজির অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জেলার দুই নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ স্বাক্ষরিত পৃথক পাঁচটি চিঠির মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনের পর সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেলকুচি পৌর শাখা জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব মণ্ডল এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডলের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নির্বাচনের পরপরই এমন অপতৎপরতা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ) আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হুমকি প্রদান, চাঁদাবাজি এবং ভাঙচুরের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন, জেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মনা পাল, পৌর বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ এবং সদর থানা রোডের দলীয় কর্মী আরজু আহমেদ। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী এসব কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত এই পাঁচজনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা বিএনপি। দলের হাইকমান্ড থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের বিজয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অরাজকতা বা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
টিএইচএ/
