অন্যের ছবি দিয়ে পরীক্ষা, ব্রিতে চাকরি নিতে এসে আটক

by Fatih Work

লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক—কোনো পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে ধরা পড়েছেন এক চাকরিপ্রার্থী। ঘটনাটি গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ কোনো যোগসাজশ ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ব্রির প্লাম্বার পদে যোগ দিতে আসেন সুজা মিয়া (৩২)। তিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুকড়া পাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে।

বিজ্ঞাপন
banner

ব্রি সূত্রে জানা যায়, দুটি প্লাম্বার পদসহ মোট ১৯টি শূন্য পদে ৩১ জনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে উত্তীর্ণদের কাছে যোগদানের চিঠি পাঠানো হয়। সুজা মিয়া ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র পান। রোববার বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দিতে গেলে তাকে গাজীপুর সদর দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

সদর দপ্তরে উপস্থিত হলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সুজা মিয়ার এডমিট কার্ডে ‘মিলন মিয়া’ নামে অন্য এক ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত ছিল—অর্থাৎ তার হয়ে পরীক্ষাগুলোতে অন্য কেউ অংশ নিয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সুজা মিয়া দাবি করেন, তিনি মিলন মিয়াকে চেনেন না। শ্রীবরদী এলাকার মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটকের খবর পেয়ে তার ভায়রা ভাই সজল মিয়া শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে ব্রি সদর দপ্তরে আসেন। জানা গেছে, সজল মিয়ার বাড়ি ব্রির মহাপরিচালকের গ্রামের বাড়ির পাশেই—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সজল মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি গাজীপুর মহানগরের হায়দরাবাদ এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশে ভাড়া থাকেন। আগের রাতে সুজা মিয়া তার বাসায় ছিলেন; সকালে ব্রিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হওয়ার খবর পেয়ে তিনি কেবল দেখা করতে এসেছেন।

ঘটনার সময় ব্রির মহাপরিচালক অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় ব্রি কর্তৃপক্ষ সুজা মিয়াকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে; মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দালালচক্র বা অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্র উদ্ঘাটনের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222