বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীতে রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা। বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন অনেক তৎপর রয়েছে।
নরসিংদী জেলা সহ সারা দেশে প্রতিবারই রমজান এলে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে যায়। ইতোমধ্যে রোজার শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সেই পুরোনো চিত্র প্রায় জেলাতেই দেখা গেছে। নরসিংদীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে দাম। বেগুন, লেবু, কলা, শসা, কাঁচা মরিচ, খেজুর, দুধ, চিনি, ছোলা ও বিভিন্ন ধরনের ডালসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। আর এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নরসিংদী জেলা প্রশাসন রোজার শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে তারা জানান।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নরসিংদী জেলার সবচেয়ে বড় বাজার খ্যাত পরিচিত নরসিংদী বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে চাহিদার শীর্ষে থাকা ছোলা ও মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকা এবং মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা কেজি। রোজার আগে ৯৫ টাকায় বিক্রি হওয়া চিনি এখন ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের সময় খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। আর এই খেজুর নামক পণ্যকে পুঁজি করে খেজুরের দোকানে রীতিমতো অনেক বেশি দাম রাখা হচ্ছে। নিম্নমানের বস্তা খেজুর কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। এছাড়া মাঝারি মানের জিহাদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০-৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ২০০-২৫০ টাকা।
দুই দিনের ব্যবধানে গরুর দুধের দাম লিটারে ৫০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি বড় লেবু ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রোজার শুরুতেই বাজারে কলার সরবরাহ ঘাটতি দেখা গেছে। ১ কুড়ি চম্পা কলা (ছোট) ২০০ টাকা, যা কি না গত ৩ দিন আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা কুড়ি। ভাল মানের সাগর কলা কুড়ি ৫০০-৫৫০ টাকা এবং সবরি কলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা কুড়ি।
বোতলজাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল ৫ লিটার বিক্রি হচ্ছিল ৯৫৫-৯৮০ টাকা। পেঁয়াজ ২ দিনের ব্যবধানে বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, রুই ও কাতলা মাছ (বড়) প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ টাকা, বোয়াল প্রতি কেজি ৮০০-৯০০ টাকা, পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৮০০-৯০০ টাকা কেজি, প্যাঙ্গাস ২০০-২৫০ টাকা এবং চিংড়ি ১৫০০-১৬০০ টাকা কেজি।
এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দামও চড়া। দুই মাস ধরে যে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকার কিছু বেশি ছিল, সে ব্রয়লার মুরগি রমজান উপলক্ষে এখন প্রতি কেজি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই সঙ্গে সব ধরনের সবজি ও অন্যান্য মসলার দামও বেড়েছে।
বাজার করতে আসা ফাহিম বলেন, রমজান এলেই দোকানিদের শুরু হয় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও বাজারে এসে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বাজার মনিটরিং করতে ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবর শুনে দোকানিরা পণ্যের দামের তালিকা ঝুলান। আবার ম্যাজিস্ট্রেট যখন বাজার থেকে চলে যান, তখন তাদের সেই পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে মধ্যবিত্তরা পড়েছে বিপাকে। তিনি দ্রুত ও স্থানীয় সমাধান চান।
এ বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ কেনাকাটা বেড়ে গেলে এটি খুচরা পর্যায়ে প্রভাব ফেলে। আড়তগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই খুচরা পর্যায়ে দাম একটু বেশি। কয়েকদিন গেলেই আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, এ রমজানে নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক তৎপর রয়েছে। জেলার মাধবদী থানাসহ প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসি ল্যান্ড) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ জেলার সবগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক তৎপর রয়েছেন।
এমএআর/
