ইসরায়েলের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের আরও পাঁচটি দেশে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ এর আওতায় বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে এই যুগপৎ হামলা শুরু করে। রয়টার্স ও আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ইরাক তাদের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এই নজিরবিহীন আঞ্চলিক হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইনের রাজধানী মানামা ও জাফায়ায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণের পর আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, এই জাফায়া এলাকাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের (5th Fleet) সদরদপ্তর অবস্থিত। বাহরাইনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার নিশ্চিত করেছে যে, তাদের একটি সামরিক স্থাপনা ইরানি মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু মিসাইল প্রতিহত করলেও একটি বিস্ফোরণে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, কুয়েত এবং কাতারেও দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কুয়েত সিটিজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজার পর দেশটির সামরিক বাহিনী আকাশসীমায় শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার কথা নিশ্চিত করেছে। কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি ‘আল উদেদ’ (Al Udeid) লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করে তা প্রতিহত করার দাবি করেছে। এছাড়া সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে এএফপি জানিয়েছে। জর্ডানও তাদের আকাশসীমায় দুটি ইরানি ব্যালেস্টিক মিসাইল ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ ভোরে ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই ‘বিধ্বংসী’ পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে এবং এয়ার ইন্ডিয়াসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
টিএইচএ/
