রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ ও উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে সামরিক মুখোমুখি অবস্থান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
জাখারোভা উভয় দেশকে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধানের পরামর্শ দেন।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, “আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশতুন অধ্যুষিত সীমান্ত অঞ্চলে বিমান ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, পাকিস্তান ও ইরানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীরাও এর প্রভাবের শিকার হচ্ছেন। আমরা আবারও কাবুল ও ইসলামাবাদকে সামরিক সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার এবং পারস্পরিক সম্মান ও সংলাপের ভিত্তিতে মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।”
এদিকে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংযোগ হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাগুলো উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে—
- বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে
- অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ শুরু করতে, যাতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত হয়
- অস্থিরতা কমাতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সামাজিক সহায়তা জোরদার করতে
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে মাওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তান সরকারকে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংলাপে বসার পরামর্শ দেয়।
একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানাত ফাহিম চাকরি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক সরকার বিরোধী দল বা সাধারণ মানুষের কথা শোনে না, কারণ তাদের আয়ের একটি অংশ যুদ্ধখাত ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প থেকে আসে।”
এদিকে এসব ঘটনার মধ্যেই আফগানিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইমারাতে ইসলামিয়ার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠকে বলেন, কিছু বহিরাগত শক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
তার মতে, এসব প্রচেষ্টা মোকাবিলা করা সম্ভব কেবল আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে। সূত্র: টোলো নিউজ
অনুবাদ : আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ
হাআমা/
