নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষোভের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমেনাকে হত্যা করেছেন তার সৎ পিতা মো. আশরাফ আলী।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আশরাফ আলী তার সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে ওড়না পেঁচিয়ে আমেনাকে একাই শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আশরাফ আলী এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভিকটিমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছিলেন এবং সেই ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নরসিংদী জেলা পুলিশ এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে আমেনা হত্যার আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ঘটনার ১০-১২ দিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে হযরত আলীর বাড়িতে হযরত আলী, এবাদুল্লাহ, জামান ও গাফফার মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এবং অভিযুক্ত হযরত আলীও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানায়, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে আমেনার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। মামলার মূল অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ গাজীপুরের মাওনা ও ময়মনসিংহের গৌরীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ভিকটিমের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলী (৪০), নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), মো. আইয়ুব (৩০) এবং ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)।
আলোচিত এই ঘটনায় মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ জন সরাসরি ধর্ষণের সাথে জড়িত। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য দিকগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টিএইচএ/
