নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাত দলের হামলার কবলে পড়ে হেদায়েতুল্লাহ (২২) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে নদী থেকে তার নরসিংদীর লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। নিহত হেদায়েতুল্লাহ রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরেরচর এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে। পেশায় জেলে এই তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে হেদায়েতুল্লাহ তার চাচা চানু মিয়ার সঙ্গে ফকিরেরচর থেকে মেঘনা নদীর পশ্চিম দিকে মাছ ধরতে যান। গভীর রাতে একটি দ্রুতগতির স্পিডবোট তাদের নৌকার কাছে এসে থামে এবং একদল সশস্ত্র ডাকাত দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। প্রাণ বাঁচাতে চাচা-ভাতিজা দুজনেই নদীতে ঝাঁপ দেন। চানু মিয়া কোনোমতে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও হেদায়েতুল্লাহ নিখোঁজ হয়ে যান। অভিযোগ উঠেছে, ডাকাত দল সেই সময় জেলোদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নদী থেকেই হেদায়েতুল্লাহর মরদেহ ভেসে ওঠে।
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জালাল মিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজস্ব নৌকা নিয়ে নিখোঁজ হেদায়েতুল্লাহর সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীরে একাধিক গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে ফকিরেরচরসহ মেঘনা তীরের গ্রামগুলোতে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলেরা এখন নদীতে নামতে ভয় পাচ্ছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের বাম পাশের কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং নদীতে ডাকাত দল দমনে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
টিএইচএ/
