ইরানের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের মুখে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া চতুর্থ দফার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এবার ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এই বোমার আঘাতে রিশন লেজিয়নসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং একটি ট্রেন স্টেশন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য যানবাহন উল্টে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) নিশ্চিত করেছে যে, ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একাধিক স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার পর মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অবিস্ফোরিত ক্ষুদ্র বোমা বা সাব-মিউনিশন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শনাক্ত করা হচ্ছে। হামলার সময় তেল আবিবসহ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোতে উচ্চশব্দে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইরানের আধাসামরিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এই হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। তেহরান দাবি করেছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের পুলিশ সংশ্লিষ্ট সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিশেষ করে রাফায়েল অস্ত্র উৎপাদন কমপ্লেক্স এবং সায়োনিস্ট প্রশাসনের সাইবার কমান্ড সেন্টারগুলোতে সফল আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় উত্তরাঞ্চলের নাহারিয়া ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে বর্তমানে রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে।
টিএইচএ/
