ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর পরিচালিত হামলার সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সোমবার (৬ এপ্রিল) এই কূটনৈতিক তৎপরতার খবর নিশ্চিত করেছে।
আরাঘচির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের শিল্প ও উৎপাদন অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নজরদারিতে থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে। ফোনালাপের সময় তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকির তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘ-কে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধকে স্বাভাবিকীকরণের এই প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো মূল্যে দৃঢ় থাকবে।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এই সংকটের প্রেক্ষাপটে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং চলমান সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থনের কথা জানান। তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৃহৎ সামরিক অভিযানের অভিযোগ ওঠে। এতে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও আঞ্চলিক বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এটি একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে। দ্রুত সমাধান না হলে এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জেআর/
