হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার অবরোধ বজায় রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি সুনির্দিষ্ট ‘ভূমিকা’ হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সংশ্লিষ্ট তিন সাগরে কোনো ধরনের রফতানি বা আমদানি চলতে দেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ঘনীভূত হওয়ার আভাস দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ট্রাম্প প্রশাসন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ‘হাজারো’ সেনা সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যদিও রয়টার্স এই প্রতিবেদনের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই খবরটি আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চললেও তাতে নতুন শর্তারোপ করেছে ওয়াশিংটন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র দুটি নতুন শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ ও অবাধে’ জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ‘পারস্পরিকতার অবস্থানে’ অনড় থেকে জানিয়েছে, ইরান যদি হরমুজে বাধা দেয়, তবে তাদের নিজেদের জাহাজকেও চলতে দেয়া হবে না।
দ্বিতীয়ত, যেকোনো চুক্তির জন্য ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কাছ থেকে ‘পূর্ণ কর্তৃত্ব’ নিয়ে আসতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন তেহরানের সঙ্গে দুই দিনের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে, তবে এই কঠোর শর্তাবলির মুখে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
টিএইচএ/
