আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আরব সাগরে গত মাসে ছিনতাই হওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পণ্যবাহী জাহাজ ‘ফাহাদ-৪’ শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে সোমালি সশস্ত্র গোষ্ঠি। মূলত জাহাজে থাকা খাদ্য ও অন্যান্য রসদ ফুরিয়ে যাওয়া এবং সাগরে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় অন্য কোনো বড় জাহাজ আক্রমণে ব্যর্থ হয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠি দলটি পালিয়ে যায়। সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত এপ্রিলের শেষের দিকে উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার ধিনোওদা উপকূল থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে লেবু বোঝাই ‘ফাহাদ-৪’ জাহাজটি ১১ সদস্যের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠি কব্জা করে। পুন্টল্যান্ডের কর্মকর্তারা জানান, জলদস্যুরা সোমালিয়ার গারাকাদ বন্দর এলাকা থেকে সাগরে রওনা হয়েছিল। জাহাজটি ছিনতাই করার পর তারা সেটিকে ‘মাদারশিপ’ বা মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে গভীর সাগরে অন্য বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল।
তবে গত ৪ মে সশস্ত্র গোষ্ঠি জাহাজটি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে সোমালি উপকূলে চলাচলকারী জাহাজগুলোর মধ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি থাকায় দস্যুরা নতুন কোনো শিকারে হামলা চালাতে পারেনি। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থান করায় তাদের কাছে থাকা রসদও প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। তবে জাহাজটি ছেড়ে দেওয়ার সময় এর ক্রু সদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে সোমালি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সোমালি জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টারের (জেএমআইসি) মতে, বাণিজ্যিক রুটে একের পর এক হামলার কারণে জলদস্যুতার ঝুঁকি এখন ‘তীব্র’ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে বারবাডোজের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘অনার ২৫’ এবং সিরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘সোয়ার্ড’ এখনও জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া এডেন উপসাগরের কাছ থেকে টোগোর পতাকাবাহী জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘ইউরেকা’ ছিনতাই করে সোমালি উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সাল থেকে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক নৌ-বাহিনীর টহল দলগুলো সেদিকে মনোনিবেশ করায় সোমালি উপকূলে নজরদারি কমেছে। এই সুযোগেই জলদস্যুরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো এখন দস্যুদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
