কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গতবারের মতো এবারও যশোরে চাহিদার তুলনায় বেশি গরু প্রস্তুত করেছেন জেলার খামারিরা।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার সাড়ে ১৩ হাজার ছোট-বড় খামারি ও কৃষকরা মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭টি পশু কোরবানির হাটে তোলার জন্য প্রস্তুত করেছেন। তবে জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ১৪ হাজার ৮৬৯টি পশু বেশি আছে। গত কোরবানির ঈদে যশোরে চাহিদার তুলনায় ১৯ হাজার পশু বেশি ছিল।
এবার জেলার ৮ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৪৪টি ষাঁড়, ৯৫৭টি বলদ, ৬ হাজার ৪৫৮টি গাভী, ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল এবং ৪৪২টি ভেড়া রয়েছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করায় হাটে গরু ও ছাগলের দাম বেশ কিছুটা কমে গেছে। এতে ক্রেতারা খুশি হলেও দুশ্চিন্তায় আছেন খামারি ও কৃষকরা।
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের শাহাবাটি গ্রামের খামারি আব্দুর রউফ তার খামারে এবার ৩৬টি উন্নত জাতের ষাঁড় লালন-পালন করেছেন। এসব ষাঁড়ের প্রতিটির ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ কেজির মধ্যে। সবুজ ঘাস, ভুট্টা ও গমের ভুসি খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে এসব গরু মোটাতাজা করেছেন তিনি।
আব্দুর রউফ বলেন, ‘গত বছর কোরবানির ঈদের আগে শেষ সময়ে হাটে ক্রেতা কম ছিল। ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে গরু বিক্রি করতে হয়েছিল। তাতে লোকসান হয়। এবার ভালো দাম পাব কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
একই উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামের খামারি সাইফুল ইসলাম এবার ২০টি গরু কোরবানির হাটে তোলার জন্য প্রস্তুত করেছেন। তিনিও বলেন, গত বছর অনেক গরু অবিক্রিত ছিল, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করেছেন। ছোট খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাননি।
এনআর/
