ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা—কামাল মাওলা মসজিদকে—হিন্দু দেবীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করার পর দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও মানসিক অস্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মধ্য ভারতের ধার জেলায় অবস্থিত ভোজশালা কমপ্লেক্সের অংশ এই কামাল মাওলা মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলমানদের উপাসনাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক প্রায় পাঁচ দশক ধরে এখানে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পরিবারের একাধিক প্রজন্ম—১৯৪৭ সালের আগ থেকেই—এই মসজিদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।
তবে সাম্প্রতিক এক মামলার শুনানির পর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট রায় দেয় যে, ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি মূলত একটি হিন্দু দেবীর মন্দির ছিল। রায়ের পর থেকেই স্থাপনাটির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং মুসলিমদের প্রবেশ ও ধর্মীয় কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপের খবর পাওয়া যায়।
এরপর রবিবার স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে ওই স্থানে ধর্মীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে সেখানে দেবীর অস্থায়ী প্রতিমা স্থাপন করা হয় এবং হিন্দু ভক্তদের সমাগম ঘটে। পুরো ঘটনাটি এলাকায় নতুন করে সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ব্যবহার উপেক্ষা করে এমন রায় ও পরবর্তী কার্যক্রম তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাঁদের মতে, এটি শুধু একটি স্থাপনার মালিকানা নিয়ে বিরোধ নয়, বরং ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য নিয়েও গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ রফিক বলেন, “গত শুক্রবার পর্যন্ত এটি আমাদের মসজিদ ছিল। আজ সেই পরিচয় আর নেই। আমি কখনো ভাবিনি এমন দিন দেখতে হবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঐতিহাসিক স্থাপনার মালিকানা ও পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা না হলে তা সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা
এনআর/
