আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ক্ষমতার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে স্বাদ যেন নিচ্ছে কংগ্রেস। ভারতের দক্ষিণী রাজ্য কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজ্য কংগ্রেস নেতা ভিডি সতীশন। এর মাধ্যমে ১০ বছরের বিরতির পর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) পুনরায় কেরালার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে।
সোমবার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার সতীশন এবং তার মন্ত্রিসভার ২০ জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট মল্লিকার্জুন খাড়্গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কেরালার ওয়ানাড জেলার এমপি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ আরও অনেকে। পাশাপাশি কেরালার সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং বিজেপির রাজীব চন্দ্রশেখরও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ২০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা রমেশ চেনিথালা, কে মুরালিধরন এবং রাজ্য কংগ্রেসের প্রধান সানি জোসেফ, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) নেতা পিকে কুনহালিকুট্টি, পিকে বশীর, এন সামসুধীন, কে এম শাজি এবং ভিই আবদুল গফুর জায়গা করে নিয়েছেন।
মন্ত্রিসভার অন্যান্য মন্ত্রীরা হলেন- মন্স জোসেফ, শিবু বেবি জন, অনুপ জ্যাকব, সিপি জন, এপি অনিল কুমার, টি সিদ্দিক, পিসি বিষ্ণুনাথ, রোজি এম জন, বিন্দু কৃষ্ণ, এম লিজু, কেএ থুলসি এবং ওজে জেনেশ।
শপথ মঞ্চে সতীশান আরও ঘোষণা করেছেন, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা থিরুভানচুর রাধাকৃষ্ণন বিধানসভার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং শানিমল উসমান হবেন ডেপুটি স্পিকার। বিধায়ক অপু জন জোসেফকে সরকারি চিফ হুইপ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ১০২টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে ভোট গণনার পর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না দলটি।
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ভিডি সতীশন, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং জ্যেষ্ঠ নেতা রমেশ চেন্নিতালা।
দলীয় সূত্রে আগে জানা গিয়েছিল, কংগ্রেস পরিষদীয় দল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেণুগোপালের নাম প্রস্তাব করেছিল। তবে বিধায়কদের একটি বড় অংশ সতীশনের পক্ষ নেয়। তাদের যুক্তি ছিল, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কংগ্রেস ও ইউডিএফকে আবারও জনসমর্থনের পথে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সতীশন। শেষ পর্যন্ত সেই সতীশনকেই নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয় কংগ্রেস। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে তার নাম ঘোষণা করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কেরালার–দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী দীপা দাশমুন্সি।
