ইসরাইলি ও মার্কিন পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া বলেছেন, ‘পবিত্র কুরবানির গোশত খাওয়ার পর কোকাকোলা-পেপসির মতো ইসরাইলি পণ্য পান করে কুরবানির মহান পুণ্য নষ্ট করবেন না।’ একই সঙ্গে তিনি দেশীয় বিকল্প পণ্য ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মানিকগঞ্জের শিবালয় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজপূর্ব বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
বয়ানে তিনি বলেন, ‘কুরবানি কেবল পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় বস্তু ত্যাগ করার এক অনন্য শিক্ষা।’

হযরত ইবরাহীম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অতুলনীয় ত্যাগের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, কুরবানির মাধ্যমে মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের চেতনা জাগ্রত হয়।
তিনি আরও বলেন, সমাজে ধনী-গরিবের মাঝে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতেও কুরবানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি কুরবানির বিধান যথাযথভাবে পালন, পশুর হক আদায় এবং কুরবানির গোশত গরিব-দুঃখীদের মাঝে বণ্টনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ঈদকে আনন্দ, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের উৎসবে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বয়ানে তিনি ইসলাম ও মুসলমানদের ‘চিরশত্রু’ আখ্যা দিয়ে ইসরাইলি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পবিত্র কুরবানির মাধ্যমে যে ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও ঈমানি চেতনার শিক্ষা অর্জিত হয়, তা যেন ভোগবাদী সংস্কৃতির মাধ্যমে নষ্ট না হয়।’
এ সময় তিনি মুসল্লিদের প্রতি কোকাকোলা ও পেপসির মতো মার্কিন ও ইসরাইল-সমর্থিত পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়ে দেশীয় বিকল্প পণ্য ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
ঈদুল আজহার নামাজে শিবালয় এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-উলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া।
হাআমা/
