রক্তদানে জনসচেতনতা বাড়াতে আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনন্য উদ্যোগ

by hsnalmahmud@gmail.com

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে রক্তদান কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, দেশের রক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার আগের চেয়ে উন্নতি হলেও জরুরি মুহূর্তে এখনো অনেক রোগীকে প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত পেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শনিবার (১৪ জুন) বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই আহ্বান জানান। স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবন রক্ষায় রক্তদাতাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় কর্মকর্তারা স্বাস্থ্যসেবা খাতকে সচল রাখতে এবং জরুরি চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করতে রক্তদাতাদের অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুল ওয়ালি হাক্কানি জানান, রক্তের রিজার্ভ বা মজুদে ঘাটতি থাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের এখনো বেশ বেগ পেতে হচ্ছে—বিশেষ করে যখন কোনো রোগীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হয়।

আবদুল ওয়ালি হাক্কানি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, যেসব রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়, তারা সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত পান না। রক্তদান একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত অমূল্য মানবিক কাজ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, রক্তের পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখতে একটি দেশের অন্তত ১ শতাংশ নাগরিকের নিয়মিত রক্তদান করা উচিত।’

হাক্কানি জোর দিয়ে বলেন, রক্তদানে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়লে তা জীবন রক্ষাকারী রক্তের প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে এবং দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

এদিকে, মন্ত্রণালয়ের কিউরেটিভ মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ওয়াহদাত আলকোজি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তান রক্ত ব্যবস্থাপনায় বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক এবং বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক হাসপাতালে উন্নত মানের রক্ত পৃথকীকরণ (Separation) ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

আলকোজি আরও বলেন, ‘আমরা এই আধুনিক ব্যবস্থা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি, যাতে রোগীরা আরও সহজে নিরাপদ ও মানসম্মত রক্তসেবা পেতে পারেন।’

সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার ইউনিটেরও বেশি রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সংগৃহীত রক্ত দেশব্যাপী ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে, যা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রক্তের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

তবে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের প্রধান নিয়াজগুল নিয়াজমান্দ জানান, নেগেটিভ রক্ত গ্রুপের দাতার সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এই বিশেষ গ্রুপের রক্তের ঘাটতি এখনো তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, রক্তদান কেবল দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তি, অস্ত্রোপচারের রোগী, প্রসবকালীন জটিলতায় আক্রান্ত মা এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবনই বাঁচায় না, বরং এটি রক্তদাতার নিজের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। রক্তদানের ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে তা উদ্দীপনা জোগায়।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্বজুড়ে নিরাপদ রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানকে উৎসাহিত করতে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন করা হয়। সূত্র: আরিয়ানা নিউজ

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222