গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ১ হাজার বর্গকিলোমিটার দখল করেছে ইসরাইল

by Abid vs36

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা উপত্যকা, দক্ষিণ লেবানন এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় অঘোষিত ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষাবলয় তৈরির মাধ্যমে ইসরাইল তার সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও সীমানা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করছে। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ওপেন সোর্স ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। স্যাটেলাইট ইমেজ, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (জিআইএস) এবং সংঘাত সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রায় ১,০০০ বর্গকিলোমিটার (৩৮৬ বর্গমাইল) এলাকা জুড়ে তাদের স্থায়ী সামরিক পদচিহ্ন স্থাপন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মোট আয়তনের চেয়েও বড়। এই নতুন দখলকৃত এলাকাটি ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের ইসরাইলের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের এই বিশাল ভূখণ্ড সম্প্রসারণ মূলত ‘কৌশলগত প্রতারণা’ এবং ‘ভৌগোলিক প্রকৌশল’ নীতির অংশ। ঘোষিত যুদ্ধ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা আড়াল করতে, দেশের অভ্যন্তরীণ উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক দাবি পূরণ করতে এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা এড়াতে মাঠপর্যায়ে এই নতুন বাস্তবতা তৈরি করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর প্রকাশিত ইসরাইলের সরকারি মানচিত্রের সাথে বাস্তবতার তুলনা করে দেখা গেছে, গাজায় ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা চিহ্নিত করতে একটি ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা প্রবর্তন করে। কিন্তু বাস্তবে উত্তর গাজায় তারা সামরিক নিয়ন্ত্রণ ৬৭.৩ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৭৩.৯ বর্গকিলোমিটারে নিয়ে গেছে, যা উত্তর গাজার প্রায় ৫৪.৭ শতাংশ এলাকা।

বিজ্ঞাপন
banner

একইভাবে, ২০২৬ সালের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর দক্ষিণ লেবাননে ৫৭০ বর্গকিলোমিটার বাফার জোনের কথা সরকারিভাবে বলা হলেও, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে নির্ধারিত সীমানার বাইরে থাকা জাওতার আল শারকিয়াসহ বিভিন্ন শহরের বেসামরিক ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এহাব জাবারিন একে ‘পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, কূটনীতিকরা বিশ্বমঞ্চে আইন মানার দাবি করলেও সামরিক বাহিনী ভেতরে ভেতরে ভূগোল গ্রাস করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্রুত ভূখণ্ড সম্প্রসারণ মূলত সামরিক ব্যর্থতা ঢাকার একটি কৌশল মাত্র। ইসরাইলি রাজনীতির বিশেষজ্ঞ মোহান্নাদ মুস্তফা জানান, হামাস বা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সামরিক বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ইসরাইলি নেতৃত্ব এখন বাফার জোন বাড়িয়ে ভৌগোলিক বিজয় দেখাতে চাইছে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করে জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে স্থায়ীভাবে জনশূন্য নিরাপত্তা অঞ্চলে রূপান্তর করা।

অন্যদিকে, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে কোনো ‘ইয়েলো লাইন’ ঘোষণা না করেই ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতি রেখা লঙ্ঘন করে ২৩৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী সামরিক ক্যাম্প স্থাপন করেছে ইসরাইল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে সিরিয়ার অভ্যন্তরে ৮০০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে ইসরাইলি সেনা। বিশেষজ্ঞ জাবারিন একে একটি ‘কম কোলাহলের দখলদারিত্ব’ বলে বর্ণনা করেছেন, যার মাধ্যমে সিরিয়ায় নতুন কোনো শাসনব্যবস্থা বা মার্কিন আঞ্চলিক সমঝোতা আসার আগেই ইসরাইল নিজের মতো করে নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি করে নিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ১,০০০ বর্গকিলোমিটারের এই বিশাল এলাকা ধরে রাখা ইসরাইলের ছোট রিজার্ভ আর্মি ও চাপের মুখে থাকা অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না, বরং এটি তিনদিকের শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশের সাথে স্থায়ী সংঘাতের জন্ম দিয়ে ইসরাইলকে এক ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222