আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক ইংরেজি গণমাধ্যমে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আরবি শব্দ ‘ইনশাআল্লাহ’। বিশ্বখ্যাত তারকাদের নানা মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার প্রভাবে ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যমে শব্দটির ব্যবহার ২০১৭ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। গ্লোবাল নিউজ ডাটাবেজ ‘জিডিইএলটি’ (GDELT)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটির ব্যবহার পশ্চিমা গণমাধ্যমে এতটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে যে, এখন অনেক ক্ষেত্রে এর কোনো অনুবাদ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই সরাসরি সংবাদে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমের ভাষা পর্যবেক্ষণ করে জিডিইএলটি ডাটাবেজ এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমা পপ কালচারে ২০১৬ সালে ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী স্টিংয়ের ‘ইনশাআল্লাহ’ শিরোনামের একটি গানের মাধ্যমে শব্দটি প্রথম বড় পরিসরে পরিচিতি পায়। এরপর ২০১৭ সালে মার্কিন অভিনেত্রী লিন্ডসে লোহান ইনস্টাগ্রামে শব্দুটি ব্যবহার করলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রথম বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়, যা নিয়ে গণমাধ্যমে বেশ কয়েক দিন ধরে তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন চলে। ২০১৯ সালে ইলহান ওমর এবং রাশিদা তলাইব প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক সংবাদে আরবি ও ইসলামি শব্দমালার ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালে লেবাননের বৈরুত বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বৈরুতকেন্দ্রিক সংবাদে শব্দটির ব্যবহার ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। একই বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি উচ্চারিত হলে মার্কিন গণমাধ্যমে তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষ, ইনফ্লুয়েন্সার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে শব্দটি পশ্চিমা দর্শকদের কাছে আরও বেশি পরিচিত হয়ে ওঠে। সম্প্রতি হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ের একটি সাক্ষাৎকারে শব্দটির সঠিক ও সাবলীল ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ লাইক ও শেয়ার কুড়ায়, যা মূলধারার সংবাদে এর উপস্থিতিকে চলতি বছরে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুধু গণমাধ্যমেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও শব্দটির প্রতি কৌতূহল আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। গুগলের সার্চ ট্রেন্ডের ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে গুগল সার্চে ‘ইনশাআল্লাহ শব্দের অর্থ কী’ (meaning inshallah) লিখে খোঁজার হার প্রায় ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ‘আরবি থেকে ইনশাআল্লাহ শব্দের অনুবাদ’ (translate inshallah from Arabic) সংক্রান্ত সার্চ বেড়েছে ৭০০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে ‘মাশাআল্লাহ এবং ইনশাআল্লাহর মধ্যে পার্থক্য’ (mashallah vs inshallah) লিখে সার্চ করার হার প্রায় ১ হাজার ৮০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইংরেজিভাষী দর্শকদের মাঝে এই শব্দগুলোর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার স্পষ্ট প্রমাণ।
ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিধানে যুক্ত হওয়ার বহু আগেই গণমাধ্যম, অভিবাসন, বিনোদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে শব্দগুলো অন্য ভাষায় জায়গা করে নেয়। বর্তমানে ‘ইনশাআল্লাহ’র পাশাপাশি ‘হাবিবী’ বা ‘মাশাআল্লাহ’র মতো আরবি শব্দগুলোও ইংরেজি কথোপকথনে কোনো অনুবাদ ছাড়াই নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে, যার অন্যতম বড় উদাহরণ জনপ্রিয় পপ তারকা ড্রেকের সাম্প্রতিক অ্যালবাম ‘হাবিবি’।
তথ্যসূত্র: দ্যা ইসলামিক ইনফরমেশন
টিএইচএ/
